Home » তুলসীর মালা পরে স্কুলে ঢোকা যাবে না; অবশেষে সংবাদ মাধ্যমে খবরের জেরে এই ফতোয়া তুলে নিলেন প্রধান শিক্ষিকা

তুলসীর মালা পরে স্কুলে ঢোকা যাবে না; অবশেষে সংবাদ মাধ্যমে খবরের জেরে এই ফতোয়া তুলে নিলেন প্রধান শিক্ষিকা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- গলায় তুলসীর মালা পরে স্কুলে ঢোকা বারণ। কোনও পড়ুয়া তুলসীর মালা পরে আসছে কিনা তা দেখতে স্কুলের দরজার সামনে কড়া পাহাড়া দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষিকা। এমনকী, এই নিয়ে রীতিমতো ফতোয়া জারি করেছেন প্রধান শিক্ষিকা। ঘটনা বারাসত নবপল্লী যোগেন্দ্রনাথ বালিকা বিদ্যামন্দিরের। তুলসীর মালা পরায় ফতোয়া জারি নিয়ে বিদ্যালয়ের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছে স্কুলের পড়ুয়া ও অভিভাবকরা। তবে, অবশেষে সংবাদমাধ্যমগুলিতে খবরের জেরে তুলসী মালা পড়ে স্কুলে না আসার ফতোয়া তুলে নিলেন নবপল্লী যোগেন্দ্রনাথ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রাণী দত্ত চক্রবর্তী।

শুক্রবার প্রধান শিক্ষিকার এই ফতোয়া জারির খবর ছড়ালে আজ বিদ্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রধান শিক্ষিকা জানিয়ে দেন ছাত্রীদের তুলসীর মালা পড়ে বিদ্যালয়ে আসতে বারণ করবার পিছনে মূল কারণ। যে কথা তিনি আগেও বলেছিলেন তবে তার কথার অপব্যাখ্যা হয়েছে। ফলে এত মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

একইসাথে তিনি স্কুল গ্রুপে জানিয়ে দিয়েছেন যে কোনও ছাত্রী যদি তুলসীর মালা পড়ে বিদ্যালয়ে আসতে চায়, আসতে পারবেন। তাতে স্কুলের কোনও বাধা থাকবে না। স্কুলের ছাত্রী থেকে শুরু করে অভিভাবকরা প্রত্যেকেই এই নতুন সিদ্ধান্তে খুশি।

উল্লেখ্য, স্কুলে তুলসী মালা পড়ে আসায় ফতোয়া জারি শুনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের তরফে আজ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তারপর প্রধান শিক্ষিকা ক্ষমাও চান।

প্রসঙ্গত, স্কুলের পরিচালন সভাপতির ভর্ৎসনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধান শিক্ষিকা জানান, তিনি একদিন স্কুলে একটি ছাত্রীকে তুলসীর মালা পরতে দেখেছিলেন। কিন্তু সেটি কোনওভাবে ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। মালা কারওর পায়ে লাগলে ধর্মীয় আবেগের অসম্মান হতে পারে, সেই কথা ভেবে তিনি মালা পরে আসতে নিষেধ করেছেন।

যদিও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষিকার এই যুক্তি মানতে নারাজ। স্কুল কর্তৃপক্ষেরই একাংশ মনে করছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রধান শিক্ষিকার পরিচালন সমিতির সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।

প্রধান শিক্ষিকার এ রকম আচরণ শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি চম্পক দাস। তিনি প্রধান শিক্ষিকাকে ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘স্কুল কোনও অবস্থাতেই ছাত্রীর ধর্মীয় আবেগে আঘাত করতে পারে না। তুলসীর মালা পরে আসলে পড়াশোনার ক্ষতি হয় না, বরং এমন নিষেধাজ্ঞা বিদ্যালয়ের পরিবেশে অশান্তি ডেকে আনতে পারে।’

সূত্রের খবর, বারাসতের স্কুলে ছাত্রীদের তুলসীর মালা পরে আসতে বারণ করেছেন সেখানকার প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রাণী দত্ত চক্রবর্তী। স্কুলে এই বিষয়ে নজর রাখার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও এই নিয়ে নির্দেশ জারি করেছেন বলে অভিযোগ। স্কুলে প্রধান শিক্ষিকার এমন নির্দেশে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

About Post Author