Home » মিলে গেল ক্লাইভ-সিরাজ, বাড়ি নিয়ে মামলা দায়ের কোর্টে

মিলে গেল ক্লাইভ-সিরাজ, বাড়ি নিয়ে মামলা দায়ের কোর্টে

সময় কলকাতা ডেস্ক:- পলাশির প্রান্তরে মুখোমুখি হয়েছিলেন দু’জন। সেটা ছিল ১৭৫৭ সাল। তার ২৬৮ বছর পরে ফের একসুতোয় বাঁধা পড়লেন দু’জন। যুদ্ধ নয়, পলাশির যুদ্ধের দুই সেনাপতিকে জুড়েছে অবহেলা, অনাদর, হাইকোর্ট আর মামলা।

মাসদুয়েক আগে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল মুর্শিদাবাদে সিরাজদৌলার হীরাঝিল ভবনের দুরবস্থা নিয়ে। ভবনটি প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে জানিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। সেই মামলায় প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ একটি কমিটি গড়ে দিয়েছে। সবিস্তার অনুসন্ধান করে ওই কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেবে আদালতে।

হীরাঝিল প্রাসাদ থেকে বেরিয়েই পলাশির প্রান্তে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন সিরাজ। আর ‘দমদম হাউস’ তৈরি হয়েছিল ১৭০০ সাল নাগাদ। ১৭৫৭ সালে বাংলার গভর্নর হওয়ার পরে দমদমের বাংলোয় আসেন ক্লাইভ। আরও একটি তথ্য নজর কাড়ার মতো — পলাশির যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২৩ জুন। আর ক্লাইভ হাউস নিয়ে মামলা হলো ২৬ জুন!

১৭৫৭–য় পলাশির যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজকে পরাজিত করে এ দেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত ধরে ব্রিটিশ রাজত্বের সূচনায় অগ্রণী ছিলেন ক্লাইভ।

হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ, দমদমের হেরিটেজ সৌধটি ঘিরে বেআইনি দখলদারি হয়েছে। ওই ভবনের বেশ কিছু জায়গা ভেঙেও পড়েছে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

মামলাকারীর তরফে বর্ষীয়ান আইনজীবী সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ১৯৯০–এর মধ্যেই ওই ভবনের বহু অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। খসে পড়েছিল সিলিংয়ের অংশ।

২০০০–এ এএসআই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়। ভবনটিকে ‘সৌধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু তার পর থেকে আর কোনও সংস্কার হয়নি। বারবার এএসআই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কাজ হয়নি।

উল্টে ওই জায়গায় শুরু হয়ে গিয়েছে দখলদারি। বেশ কয়েকটি পরিবার বসবাসও শুরু করে দিয়েছে। অভিযোগ, বাড়িটির এমন অবস্থা যে, সেটি যখন–তখন মুহূর্তে হুড়মুড়িয়ে ভেঙেও পড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে–র ডিভিশন বেঞ্চে জমা পড়ে দমদমে রবার্ট ক্লাইভের বসতবাড়ি সংস্কারের দাবিতে জনস্বার্থ মামলা। কোর্টের নির্দেশ, ওই ভবনটির সংস্কারে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা জানিয়ে ছ’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে আর্কিয়োলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই)–কে।

About Post Author