সময় কলকাতা ডেস্ক:- দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের দিনহাটায় বসবাস করছেন রাজবংশী সম্প্রদায়ের উত্তম কুমার ব্রজবাসী। তাঁর কাছে বৈধ পরিচয়পত্রও রয়েছে। তবু তাঁকে বিদেশি কিংবা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে এনআরসি নোটিশ পাঠিয়েছে অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনাল।
আর এই বিষয়টি নজরে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার বলেন, তিনি হতবাক ও অত্যন্ত বিচলিত। এটি গণতন্ত্রের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ। অসমের বিজেপি সরকার কোনও সাংবিধানিক ক্ষমতা ছাড়াই বাংলায় এনআরসি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ও বিপজ্জনক চক্রান্ত, যার লক্ষ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভয় দেখিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং বাংলার মানুষের পরিচয় মুছে ফেলা। বিজেপির এই পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক সুরক্ষার ওপর হামলা বলেই মনে করছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত বিরোধী দলগুলিকে একজোট হয়ে বিজেপির বিভাজনমূলক ও দমনমূলক রাজনীতি বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হুঁশিয়ারি, বাংলা চুপ করে থাকবে না।
এনআরসি আসলে কী?
এনআরসি বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস হল একটি সরকারি তালিকা যেখানে ভারতের নাগরিকদের নাম নথিভুক্ত করা হয়। ২০১৯ সালে অসমে এনআরসি-র একটি তালিকা প্রকাশিত হয়, যেখানে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ে। মূলত, যাঁদের কাছে ১৯৭১ সালের আগের প্রমাণ সহ বৈধ নাগরিকত্বের দলিল নেই, তাঁদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিরোধীদের আশঙ্কা, এই ধরনের তালিকা জাতি, ধর্ম বা ভাষার ভিত্তিতে বৈষম্যের পথে নিয়ে যেতে পারে দেশকে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এনআরসি-র বিরুদ্ধে বরাবরই প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, এই প্রক্রিয়া একদিকে যেমন মানবিক সঙ্কট তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে তেমনভাবে সাধারণ মানুষের পরিচয় নিয়ে অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
এই ঘটনার পেছনে বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলার সাংবিধানিক অধিকার ও সামাজিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের ফর্ম দেখে মুখ্যমন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, ফর্মে যে যে তথ্য চাওয়া হতে তাতে এনআরসি লাগু করার আশঙ্কা রয়েছে।
সেই আশঙ্কা সত্যি করেই উত্তমকুমার ব্রজবাসী পেলেন এনআরসি ফর্ম। সরব বাংলার শাসকদল।
আসলে ২০২৬ সালের গোড়ায় অসম ও পশ্চিমবঙ্গ দুই রাজ্যেই বিধানসভা ভোট রয়েছে। অসমে হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকার এনআরসি-র জিগিড় তুলে ভোটের আগে মেরুকরণ তীব্র করতে চাইছেন। আর বাংলার শাসক দলের উদ্বেগ হল, এনআরসি বা ভোটার তালিকা সংশোধনের নাম করে বাংলার বহু মানুষকে তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা হতে পারে। ছাব্বিশের ভোটের আগে হঠাৎ এই তৎপরতায় বিজেপির ষড়যন্ত্র বা কৌশলই দেখছে তৃণমূল।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?