সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভাঙড়ে রাজ্জাক খাঁর খুনের ঘটনায় ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনীতির পারদ। খুনের ঘটনায় সরাসরি ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। পাল্টা দিতে সময় নেননি নওশাদ সিদ্দিকীও। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে— এমনটাই বিস্ফোরক দাবি করেছেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর সোজাসাপটা কথা, ‘শওকত মোল্লাকে জেরা করলেই খুনের আসল রহস্য সামনে চলে আসবে।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার চালতাবেড়িয়া এলাকায় গুলি করে খুন করা হয় তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খাঁ-কে। বৃহস্পতিবার রাতে দলীয় বৈঠক থেকে বাড়ি ফেরার সময় খুন হন তিনি। প্রথমে পরপর তিনটি গুলি করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে আসে কাশিপুর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে যান কলকাতা পুলিশের সিপি মনোজ ভার্মা। তিনি সব কিছু খতিয়ে দেখেন। পৌঁছে গিয়েছিলেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাও। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই অভিযোগ করেছিলেন, এই হামলার পিছনে আইএসএফ-সহ বিরোধীদের মদত রয়েছে।
পাল্টা জবাবে নওশাদ বলেন, এই খুন কোনও বিরোধী ষড়যন্ত্র নয়, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই ফল। ভাগ বাটোয়ারা এবং প্রভাব বিস্তার নিয়েই গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষ। প্রশাসনের উচিত, শওকতের গতিবিধি খতিয়ে দেখা ও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা। নওশাদের আরও অভিযোগ, শওকতের অতীত খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, এর আগেও বহু রক্তাক্ত ঘটনার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। রাজ্জাক খাঁ আগে আরাবুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পরে চাপ দিয়ে তাঁকে নিজের গোষ্ঠীতে টেনে আনেন শওকত। এটাই বিরোধের মূলে।
শওকত-নওশাদের এই তর্জার মাঝেই মুখে খুলেছেন ভাঙড়ের তাজা নেতা আরাবুল ইসলামও।

রাজনৈতিক তর্জা চলছেই। এসবের মাঝেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শুক্রবারই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ফরেন্সিক টিম। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা বাইক, রক্তের দাগ, আশপাশের মাটি ও অন্যান্য বস্তু থেকে ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়। জারি জিজ্ঞাসাবাদ।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?