সময় কলকাতা ডেস্ক:- জন্মদিনের পার্টি চলাকালীন খুন এক তৃণমূল নেতা। মৃতের নাম আবুল কালাম আজাদ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের ইংরেজবাজার থানার লক্ষ্মীপুর এলাকায়। ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও তাঁর দলবল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আবুল কালাম আজাদের বাড়ি মানিকচকের গোপালপুর এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি তাঁর স্ত্রী-সহ কয়েকজন ইংরেজবাজারের লক্ষ্মীপুরে এক বাড়িতে জন্মদিনের পার্টিতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, রাতে ওই তৃণমূল নেতাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও তাঁর দলবল মিলে তাঁর উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
আবুল কালাম আজাদকে বেধড়ক মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় বলে অভিযোগ। স্বামীকে বাঁচাতে এসেছিলেন স্ত্রী ও অন্যান্যরা। তাঁদের উপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরে আক্রান্ত ওই তৃণমূল নেতা ও জখমদের উদ্ধার করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানেই কর্তব্যরত ডাক্তাররা আবুল কালাম আজাদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হামলার ঘটনায় ওই তৃণমূল নেতার স্ত্রী-সহ তিনজন গুরুতর জখম হন। ঘটনায় অভিযুক্ত, আর এক তৃণমূল নেতা মইনুল শেখ — যিনি একসময় কংগ্রেসে যোগ দিলেও পরে ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন।
ইংরেজবাজার থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কয়েকজনকে পাকড়াও করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। আর কারা ঘটনায় জড়িত, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কী কারণে এই ঘটনা? তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, নিহত আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জমি দখল থেকে শুরু করে জাল সার্টিফিকেট ও নথিপত্র তৈরির একাধিক অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে জমি আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার সঙ্গে তাঁরই এক সময়ের ব্যবসায়িক সঙ্গী মইনুল শেখ জড়িত বলে অভিযোগ। জমিজমা এবং টাকার লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আজাদ ও মইনুলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দু’জনেই জমি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নয় বিঘা জমির মালিকানা নিয়ে শুরু হওয়া বিবাদ শেষ পর্যন্ত খুনে গিয়ে ঠেকে বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
একই দলের দুই সমর্থকের মধ্যে বিবাদ, সেই বিবাদ থেকে খুনের অনুমান প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নামে বিজেপি।
যদিও, তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে দল কোনওভাবেই যুক্ত নয়। অভিযুক্ত যেই হোক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পুলিশ ইতিমধ্যেই মইনুল শেখকে পাকড়াও করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। বছরের শুরুতেই মালদহে খুন হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা দুলাল সরকার। পুলিশ তদন্তে নেমে দলেরই প্রবীণ নেতা সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। সেবারও প্রকোট হয়েছিল দলের অন্দরে দ্বন্দ্বের বিষয়টি।
মালদহের মাটিতে দাঁড়িয়েই জেলা রাজনীতিতে এই রেষারেষি নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
তারপরেও জেলায় খুন-গুলিবিদ্ধ হয়েছেন একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মী। সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ফের। বৃহস্পতিবারই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে গুলি ও কোপ মারা হয় তৃণমূল নেতা রজ্জাক খাঁকে, যিনি বিধায়ক শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এবার মালদহ। টানা দু’টি রাজনৈতিক খুনে অস্বস্তিতে শাসকদল।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?