Home » দিল্লির ‘দিল’ জয়ের চেষ্টা! আম দিয়ে ভারতের মন গলানোর চেষ্টা ইউনুসের?

দিল্লির ‘দিল’ জয়ের চেষ্টা! আম দিয়ে ভারতের মন গলানোর চেষ্টা ইউনুসের?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে সৌজন্য রাখতে যে রীতি চালু করেছিলেন, তা বজায় রাখলেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসও। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হল ঝুড়ি ঝুড়ি আম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই আম পাঠিয়েছেন ইউনুস। তবে শুধু মোদিকেই নয়, একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আম পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ আম পাঠিয়েছে ত্রিপুরাতেও। এই রাজ্য গুলির সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে। সোমবারই নয়া দিল্লিতে এসে পৌঁছয় বাংলাদেশের হাজার কেজি আম।

বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার বাংলাদেশের রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙা আম পাঠিয়েছেন মহম্মদ ইউনুস। খুব রসালো এবং আঁশবিহীন হওয়ায়, তা খেতে খুব ভাল। বিদেশেও রফতানি হয় এই আম। আঁটিটি আয়তনে খুবই ছোট। এক-একটি হাড়িভাঙা আমের ওজন ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।

এই আমের যাত্রা শুরু হয়েছিল রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার তেকানী গ্রাম থেকে। আমের স্বাদের মতো এর নামকরণের কাহিনিও আকর্ষণীয়। হাঁড়িভাঙা আম প্রথম উৎপাদন করেন নফল উদ্দিন পাইকার নামে কেতানী গ্রামের এক চাষী। দুটি চারার একটি চুরি হয়ে গেলে আর একটিতে তিনি উপরে মাটির হাঁড়ি ঝুলিয়ে গাছে জল দিলেন। কেউ সেই হাঁড়িটি ভেঙে দেয়। ঘটনাচক্রে সে বছর প্রচুল ফলন হয় গাছটিতে। সেই আম এবার পাঠানো হল দিল্লিতে।

তবে শুধু দিল্লি নয়, বাংলা, ত্রিপুরাতেও পাঠানো হল। আসলে, বাংলাদেশের কূটনীতিতে আম আর ইলিশের বিশেষ কদর রয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে নিয়ম করে আম, ইলিশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিদেশ মন্ত্রী এবং বাংলা-সহ চার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের পাঠাতেন।

তা নিয়েও হাসিনার ভারতপ্রীতি নিয়ে কটাক্ষের বন্যা বয়ে যেত সমাজমাধ্যমে।

তবে ভারত-বাংলাদেশের এই আম-কূটনীতি হাসিনার আমল থেকেই ছিল। প্রতি বছর আমের মরশুম এলেই, জুন-জুলাই মাসে ভারতে আম পাঠাতেন। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেও আলাদা সম্পর্ক বাংলাদেশের। সেই সূত্রে বাংলাতেও আসত আম। কখনও সেই ঝুলিতে থাকত হিমসাগর বা ল্যাংড়া আম, কখনও আবার থাকত সুস্বাদু আম্রপালি।

তবে এখন দু-দেশের সম্পর্ক যখন তলানিতে ঠেকেছে তখন ইউনুস কেন আম কূটনীতির চেনা পথে হেঁটে ভারতকে খুশি করতে চাইছেন সেই প্রশ্নে ছেয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ এমন কথাও বলছেন, ঠেলার নাম বাবাজি। জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য, বেহাল আর্থিক পরিস্থিতির মুখে দিল্লির দিল জেতার চেষ্টা চালাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা।

সাম্প্রতিক অতীতে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের উপর বেশ কিছু আমদানি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

তবে এবার হাসিনার ধারা বজায় রেখে কার্যত বন্ধুত্বের হাতই বাড়াতে চাইছেন ইউনুস। তাঁর পদক্ষেপে কার্যত এটা স্পষ্ট। তবে নয়া দিল্লির কঠোর অবস্থানের পরও ঢাকার ঘনিষ্ঠতার বার্তার পিছনে আছে মার্কিন রপ্তানি নীতি। বাংলাদেশি পণ্যের উপর ৩৫ শতাংশ হারে শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করে বাংলাদেশের লাভ হবে না।

এই পরিস্থিতিতে ভারত-সহ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে মেরামত করতে চাইছে বাংলাদেশ।

About Post Author