সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের জেরে রাজ্যের চার অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ৫ আগস্ট মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছিল কমিশন। বারুইপুর পূর্বের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং সেখানকার এইআরও তথাগত মণ্ডল আর ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার এবং এই বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও সুদীপ্ত দাসকে সাসপেন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআরেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। এই চারজনের পাশাপাশি সুরজিৎ হালদার নামে এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও এফআইআরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই চার অফিসারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য মুখ্যসচিবকে কমিশন সুপারিশ করেছিল। বরখাস্ত এবং এফআইআরের নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে এখনও পর্যন্ত সেই নির্দেশ কেন কার্যকর করা হয়নি, তা নিয়ে নবান্নের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়।
দ্রুত ওই অফিসারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলা হয়। এবং সোমবার তিনটের মধ্যে এই নিয়ে উত্তর দিতে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে বার্তা দেয় কমিশন। কিন্তু সোমবার বিকেল ৩টে গড়িয়ে গেলেও নবান্ন থেকে কোনও চিঠি সিইও মনোজ আগরওয়ালের দফতরে পৌঁছয়নি। অর্থাৎ কমিশনের কথা এখনও মানেনি সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার বলে চলেছেন, নির্বাচন কমিশন যে ৪ জন অফিসার ও একজন ডেটা এন্ট্রি কর্মীর বিরুদ্ধে সাসপেনশনের নির্দেশ দিয়েছে তা নবান্ন মানবে না। তাঁর কথায়, রাজ্যের অফিসারদের কাউকেই সাসপেন্ড করা হবে না।
তবে মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে যেমন অনমনীয়, তেমনই আবার কমিশনও।
সংবিধান অনুযায়ী, কমিশন কোনও অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করলে রাজ্য সরকার দ্রুত তা মানতে বাধ্য। ২০১২ সালে নির্বাচন কমিশনকে এক্তিয়ার দেওয়া হয়েছে।
কেন না, জন প্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকারের যে সব কর্মচারী কমিশনে ডেপুটেশনে কাজ করবেন, তাঁরা কমিশনের কর্মী বলেই বিবেচনা করা হয়। সেই সময়ে কমিশন চাইলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই পারে। আর যেহেতু নির্বাচন কমিশনের কাজটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হয়, তাই রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারকে কোনও টালবাহানার সুযোগ না দিয়ে কমিশনকে ব্যবস্খা নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে।
কমিশন চাইলে নিজেই অফিসারদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে পারে। যদিও, সূত্র বলছে, কমিশনের সুপারিশের বিরুদ্ধে শেষমেশ আদালতে যেতে পারে রাজ্য সরকার। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা করা হতে পারে। রাজ্যের বক্তব্য হবে, এখন ভোট হচ্ছে না।
সুতরাং নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার নেই কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ করার। কমিশনের অবশ্য বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি আইন অনুযায়ী তাদের সেই এক্তিয়ার রয়েছে। কমিশন কোনও এক্তিয়ার বহির্ভূত পদক্ষেপ করেনি। এ ব্যাপারে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসারদের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রেখে চলেছেন মনোজ আগরওয়াল। নবান্ন বিকেল ৩ টের মধ্যে যে কোনও চিঠি পাঠায়নি তা মুখ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসকে নোট পাঠিয়ে জানিয়েছে সিইও অফিস।
তবে সূত্র যা বলছে, তা আরও বিস্ফোরক।
এই চার অফিসারকে সাসপেনশনের সুপারিশ শুধু নমুনা মাত্র। ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ফর্ম নম্বর ৬-এর আবেদনের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধানসভায় অনিয়ম হচ্ছে বলে জানতে পেরেছে মুখ্য নির্বাচন অফিসারের দফতর। আরও অন্তত ২৫ জন ইআরও ও সহকারী ইআরও-কে চিহ্নিত করে রেখেছে কমিশন। এদের মধ্যে অনেকেই ডব্লিউবিসিএস এক্সিকিউটিভ অফিসার।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি