সময় কলকাতা ডেস্ক:- ফের বোমা ফাটালেন রাহুল গান্ধি! বিহারের নির্বাচনী তালিকা সংশোধন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝে বুধবার এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সাক্ষী হন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। জীবিত থেকেও যাঁদের ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ বলে দেখানো হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে বসে চা খান তিনি। ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ ব্যক্তিদের সঙ্গে চা খাওয়ার ভিডিও-ও পোস্ট করেন তিনি। এই ‘কারচুপি’র জন্য নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে রাহুল লেখেন, ‘আমার জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে কিন্তু কখনও ‘মৃত ব্যক্তি’দের সঙ্গে চা খাওয়ার সুযোগ পাইনি। ধন্যবাদ নির্বাচন কমিশন, এই অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য।’ আর সেই অভিজ্ঞতার জন্য কটাক্ষ করে ধন্যবাদ জানান নির্বাচন কমিশনকে।
রাহুল একটি চার মিনিটের ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যায় সাতজন ‘মৃত’ ভোটারের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। রাহুল গান্ধি জানতে চান, কীভাবে তাঁরা জানতে পারলেন কমিশন তাঁদের ‘মেরে ফেলেছে’। কমিশনের তালিকায় মৃত হিসেবে থাকা ওই ব্যক্তিরা রাহুলের প্রশ্নের উত্তরও দেন !
আরেক ব্যক্তি জানান, এঁরা সবাই বিহারের রাঘোপুরের বাসিন্দা, যা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের আসন। বন্যার কারণে আরও কয়েকজন ‘মৃত’ ভোটার সেই বৈঠকে আসতে পারেননি। এক ৮৫ বছরের বৃদ্ধাকেও ভোটার তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এক কংগ্রেস কর্মী অভিযোগ করেন, পুনঃযাচাইয়ের কাগজপত্র জমা দিয়েও এঁদের নাম মুছে দেওয়া হয়েছে। মৃত ঘোষিত ভোটারদের পূর্ণ তালিকাও প্রকাশ করেনি কমিশন।’ তাঁদের অভিযোগ, এটা কেবল কোনও কেরানির ভুল নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার স্পষ্ট উদাহরণ।
বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্টে বিহারের এসআইআর ইস্যুতে শুনানি হয়। আদালত প্রাঙ্গণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছেন ‘মৃত’ ঘোষণা হওয়া বৃদ্ধা ও অন্যরা। রাহুল গান্ধি তাঁদের আশ্বস্ত করেন, ভোট চুরি তিনি হতে দেবেন না। বিহার ভোটের আগে বিরোধী জোটের অন্যতম স্লোগান হয়ে উঠেছে ভোট চুরি রুখে দেওয়া।
কমিশনের এই ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ পদ্ধতি নিয়ে মামলা সুপ্রিম কোর্টে ঝুলছে, যা আগামী বছর বাংলায়, তামিলনাড়ু ও অসমে এবং ২০২৭-এ উত্তরপ্রদেশে হাই প্রোফাইল ভোটের আগে বড় নজির গড়ে দিতে পারে।
গত এক বছরে বিরোধীরা বিশেষ করে কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে যে, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক এবং বিহারে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের আড়ালে ভোটার বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রাহুল গান্ধি সোমবার নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে ঘেরাও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি ইতিমধ্যেই কমিশন ও বিজেপির মধ্যে ‘যোগসাজশ’-এর অভিযোগ তুলেছেন।
আর মঙ্গলবার সাফ জানিয়ে দেন, কমিশন ‘ওয়ান পার্সন, ওয়ান ভোট’-এর দায়িত্ব পালন করছে না। সাফ বলেন, ‘আভি পিকচার বাকি হ্যায়’, অর্থাৎ এখনও অনেক কিছু দেখানো বাকি আছে।
এবার এক্কেবারে নির্বাচন কমিশনের তালিকায় মৃত হিসেবে থাকা ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে চা খেলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। রাহুলের অভিযোগ নির্বাচন কমিশন এই ধরনের ঘটনার কোনও তথ্য দেয়নি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, বিহারের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তাঁরা এসেছেন এই ঘটনাগুলি সকলের সামনে তুলে ধরতে। তাদের আবেদন সকল নেতারা যেন একত্রিত হয়ে ‘বিহারকে বাঁচায়’।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি