Home » মধ্যমগ্রাম বিস্ফোরণ কাণ্ডে নতুন করে ধোঁয়াশা! বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে হরিয়ানা যাচ্ছে এসটিএফ

মধ্যমগ্রাম বিস্ফোরণ কাণ্ডে নতুন করে ধোঁয়াশা! বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে হরিয়ানা যাচ্ছে এসটিএফ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- মধ‍্যমগ্রাম বিস্ফোরণ কাণ্ড নিয়ে প্রথম থেকেই রহস্যের ঘনঘটা! বিস্ফোরণের পর মৃত যুবকের গতিবিধি নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, তেমনই প্রশ্ন উঠেছিল বিস্ফোরণের ধরন নিয়েও। কিন্তু সূত্রের খবর অনুযায়ী, সচ্চিদানন্দ নিজে আইটিআই-এর ছাত্র। তাই প্রযুক্তি, মেশিন, বিস্ফোরকের বিষয়ে তাঁর জ্ঞান থাকা অসম্ভব কিছু নয়। সেক্ষেত্রে পুলিশের অনুমান, ওই বিস্ফোরক নিজেই বানিয়েছিলেন সচ্চিদানন্দ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে একটি পেনের মত ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে বিস্ফোরক বানিয়েছিলেন ওই যুবক। কিন্তু ভুল বাটন চাপ দিয়ে নিজেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এর আগেও একাধিকবার উত্তর প্রদেশ থেকে মধ্যমগ্রামে এসেছে এই সচ্চিদানন্দ।

তবে প্রশ্ন উঠছে বিস্ফোরক তৈরির জন্য যে সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস দরকার সেগুলো কোথা থেকে কিনলেন তিনি?

ডেটোনেটর গান পাউডার ব্যবহার হয়েছে কিনা, বা এই ঘটনার পিছনে কারও মদত রয়েছে কিনা। পাশাপাশি এই ধরণের বানানো বিস্ফোরক রাজ্যে আরও কারও কাছে মজুত রয়েছে কী সমস্ত কিছুই জানতে চাইছে তদন্তকারী দল।

এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য এসটিএফ-এর একটি বিশেষ দল হরিয়ানায় যাবে বলে খবর। সেখানে গিয়ে ওই যুবক যে ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন সেখানে ও তার আশেপাশে খতিয়ে দেখবেন তাঁরা।

এছাড়াও হাওড়া স্টেশনে নামার পর ওই যুবকের গতিবিধি পাওয়া যাচ্ছে কিনা তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, রবিবার রাত ১টা নাগাদ হঠাৎ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে মধ্যমগ্রাম। রবীন্দ্র মুক্ত মঞ্চের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের যুবক সচিদানন্দ মিশ্র। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, সচিদানন্দ মিশ্রের সাথে এক মহিলার সম্পর্ক ছিল, যিনি মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা। সম্পর্কের মাঝে পথের ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রেমিকার স্বামী। পথের ‘কাঁটা’ সরাতেই ওই যুবক মহিলার স্বামীকে খুনের ছক কষেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, যুবকের প্রেমিকা নীলিমাকে আটক করলেও এক্ষুনি তাকে গ্রেফতার করছে না এসটিএফ। জিজ্ঞাসাবাদে নীলিমা বারবার যে তথ্য দিয়েছেন তা হল, এই ১৬ আগস্ট সচিদানন্দের মধ্যমগ্রামে আসার খবর নীলিমা জানতেন না এবং ওই যুবকের সাথে কোনও যোগাযোগ হয়নি তাঁর।

ফলে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। নীলিমার স্বামীকে খুন করতে আসার জন্যই সচিদানন্দ ওই বিস্ফোরক বানিয়েছিল এমনটা নাও হতে পারে। অন্য উদ্দেশ্য ছিল কিনা সেটাও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

About Post Author