সময় কলকাতা ডেস্ক:- রাশিয়ার তেল কেনার অপরাধ। বুধবার থেকে ভারতের বিরুদ্ধে কার্যকর হতে চলেছে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক। এবার তা নিয়ে নোটিস জারি করেছে হোয়াইট হাউস। ফলে আমেরিকায় বাণিজ্য করতে গেলে বুধবার থেকে ভারতের ব্যবসায়ীদের গুনতে হবে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক। আমেরিকার সরকারি ওয়েবসাইটে এই নির্দেশিকার খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট আমেরিকার ইস্টার্ন জোনের সময় অনুযায়ী রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে নয়া শুল্ক। যা ভারতীয় সময় অনুযায়ী বুধবার সকাল ৯টা ৩১ মিনিট।
নির্দিষ্ট ভাবে ৭ পাতার ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই সময়ের পর থেকে আমেরিকার বাজারে কোনও মার্কিন পণ্য প্রবেশ করলে তার জন্য বাড়তি শুল্ক দিতে হবে।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের অধীনস্থ কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৬ আগস্ট এক্সিকিউটিভ অর্ডার-এ সই করেছিলেন। ২৫% শুল্ক কার্যকর করার কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে আমেরিকার তরফে। আমেরিকার আদেশ অনুযায়ী, রাশিয়ার সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলিকে ‘শাস্তি’ দিতে এই নীতি নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির উপর আরও নতুন নিষেধাজ্ঞা বা বাড়তি শুল্ক আরোপ হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ঠারেঠোরে আগেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, যদি সমঝোতা না হয়, তবে খুব বড় পরিণতি আসবে।
তবে এখনও পর্যন্ত রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রেতা চিনের উপর এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি আমেরিকা। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হওয়ায় প্রথম দফায় ২৫%, পরে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
সেটাই এবার কার্যকর হতে চলেছে। আমেরিকার অভিযোগ, ভারতের তেল কেনার জন্যই রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থ পাচ্ছে। যদিও ভারত আমেরিকার এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের যুক্তি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চিন রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অপরিশোধিত তেল কিনছে। আমেরিকাও রুশ পণ্য কেনায় পিছিয়ে নেই। এই অবস্থায় ভারতের উপর শুল্ক চাপানো অন্যায়।
স্পষ্টভাবে নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে যেখানে কম দামে তেল পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই তেল কিনবে ভারত।
এরই মাঝে সোমবার এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, যতই চাপ আসুক না কেন, ভারত তা মোকাবেলা করার জন্য শক্তি বৃদ্ধি করে যাবে। ভারত আত্মনির্ভর ভারতের সংকল্প নিয়েছে। সেই সংকল্পের পথে ভারত অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। দেশ শক্তিশালী হয়েছে। এখন গোটা বিশ্বে অর্থনৈতিক স্বার্থপরতার উপর ভিত্তি করে নীতি গঠন হচ্ছে। এরপরই তিনি বলেন, শুল্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ সহ্য করবে না ভারত। মাথা নত করবে না। ভারত সরকার ঠিক রাস্তা খুঁজে বের করবে।
দুই দেশের এই টানাপোড়েনের মাঝেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রফতানি পণ্যের উপর শুল্ক দ্বিগুণ হওয়ায় নতুন করে চাপে রফতানিকারীরা।
ইতিমধ্যেই ভারত বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক বিভিন্ন রফতানিকারী সংগঠন এবং রফতানি উন্নয়ন পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। আলোচনা ঘুরছে মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং বিশেষ কিছু খাতকে লক্ষ্য করে সুরাহার পথ খোঁজার দিকে।
সরকার মনে করছে, সমগ্র অর্থনীতির জন্য সমর্থনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার থেকে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক সহায়তাই বেশি কার্যকর হবে। সরকারি আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, রফতানিমুখী ইউনিট এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পগুলিকে রক্ষা করাই এখন সরকারের কৌশলের মূল লক্ষ্য। কারণ বহির্বিশ্বের ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই খাত।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
সই বিতর্কে বিজেপিকে তোপ চন্দ্রনাথের