সময় কলকাতা ডেস্ক:- নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত জীবনকৃষ্ণ সাহার ইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হয় শনিবার। সকালে ফের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে যখন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে আদালতে তোলা হচ্ছিল, তার আগে জীবনকৃষ্ণ জানান, তিনি মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলেননি। যে সম্পত্তি নিয়ে এত হইচই, সেটা তিনি দশ বছর ধরে ব্যবসা করে তিলে তিলে তৈরি করেছেন।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। গত ২৫ আগস্ট মুর্শিদাবাদের কান্দির আন্দি গ্রামে তাঁর বাড়ি ঘিরে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দেখেই পিছনের দরজা দিয়ে পালাতে যান তিনি। এমনকী, ধরা পড়ার আগে নিজের মোবাইল ফোনও ঝোপে ফেলে দেন বলে দাবি ইডির।
এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সিবিআই যখন তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল, তখনও দু’টি মোবাইল ফোন পাশের পুকুরে ছুড়ে ফেলেছিলেন তিনি। সেবার ডুবুরি নামিয়ে উদ্ধার হলেও বিশেষ তথ্য মেলেনি। দীর্ঘ ১৩ মাস জেলে থাকার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিন পান তিনি। আদালত তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ফের অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে গত ২৫ আগস্ট। একই মামলায় সেদিন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। জীবনকৃষ্ণ সাহার শ্বশুরবাড়ি রঘুনাথগঞ্জে এবং আন্দি মহীষ গ্রামের এক ব্যাঙ্ককর্মীর বাড়িতেও অভিযান হয়। বীরভূমের সাঁইথিয়ার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কাউন্সিলর মায়া সাহা, যিনি সম্পর্কে জীবনকৃষ্ণের পিসি, তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চলে।
জানা যায়, গ্রেফতারের সময় জীবনকৃষ্ণ আবারও নিজের মোবাইল ফোন গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন। পরে তদন্তকারীরা বাড়ির পিছনের পুকুর ও ঝোপ থেকে সেটি উদ্ধার করেন।
তবে তিনি মোবাইলের পাসওয়ার্ড জানাতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ।
তবে ইডি হেফাজত শেষে শনিবার ফের আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিধায়ককে নিয়ে বেরোন তদন্তকারীরা। আদালতে যাওয়ার আগে বিধাননগর হাসপাতালে জীবনকৃষ্ণের শারীরিক পরীক্ষাও করানো হয়। দুই জায়গাতেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিধায়ক দাবি করেন, তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। জীবনকৃষ্ণ সাহার টাকা ফেরতের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্ত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
জীবনকৃষ্ণ সাহার টাকা ফেরতের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্ত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কারণ মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিধায়ক ইডির হেফাজতে থাকাকালীন দাবি করেন যে, তিনি কোনও চাকরিপ্রার্থীকে টাকা ফেরত দেননি।
কারণ, তিনি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে টাকাই নেননি। বরং তিনি এক ব্যক্তিকে জমি কেনার জন্য ওই পরিমাণ টাকা দিয়েছেন বলে ইডিকে জেরায় জানিয়েছেন।
সূত্রের খবর, জীবনকৃষ্ণ সাহা মুর্শিদাবাদ ছাড়াও দুই দিনাজপুর, মালদহ ও বীরভূমে চাকরি বিক্রির একটি বিশাল সাম্রাজ্য চালাতেন। ১৫ জন এজেন্ট এবং তাদের মাধ্যমে প্রায় ৫০ জন সাব-এজেন্টকে কাজে লাগিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হতো। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা জমা হয়েছে বলে ধারণা ইডি’র। বিধায়ক হওয়ার পর সম্পত্তির পরিধিও বেড়েছে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত একের পর এক বেনামি সম্পত্তি কেনা হয়েছে ঘনিষ্ঠদের নামে।
ইডির দাবি, যে পরিমাণ টাকা জীবনকৃষ্ণ এজেন্টদের অথবা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নিয়েছিলেন, তা তিনি ফেরত দিতে শুরু করেন। ৪৬ লক্ষ টাকা বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে তুলে স্ত্রী, বাবার অ্যাকাউন্টে পাঠান জীবনকৃষ্ণ সাহা। ওই টাকার মধ্যে ১২ লক্ষ টাকা তিনি তুলেছিলেন এক এজেন্টের কাছ থেকে।
কিন্তু তার মধ্যে তিনি পাঁচ লক্ষ টাকা ফেরত দিয়ে দেন। যদিও শনিবার আদালতে তোলার আগে জীবনকৃষ্ণ সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, তিনি মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলেননি। যে সম্পত্তি নিয়ে এত হইচই, সেটা তিনি দশ বছর ধরে ব্যবসা করে তিলে তিলে তৈরি করেছেন। জারি তদন্ত। আপাতত ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শ্রীঘরে থাকতে হবে নিয়োগ অভিযুক্ত বিধায়ককে। ওই দিন জীবনকৃষ্ণকে সশরীরে আদালতে পেশ করতে হবে বলে নির্দেশ।


More Stories
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
প্রাক্তন বিধায়ক রফিকুরের ভাই আনিস গ্রেফতার