Home » ঘূর্ণিঝড় থেকে সুন্দরবনকে বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের

ঘূর্ণিঝড় থেকে সুন্দরবনকে বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের

সময় কলকাতা ডেস্ক: ইয়াস আম্ফানের বিপর্যয়ে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল সুন্দরবন এলাকার জনজীবন । সেই ঝড়ের সময় নদীর জল স্ফীত হয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে পড়ায় প্লাবিত হয় সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। আবহাওয়া ও পরিবেশবিদরা বলছেন দিনে দিনে পৃথিবীর আবহাওয়া যে ভাবে পরিবর্তন হচ্ছে তাতে আমাদের ঋতু পরিবর্তনের উপরও প্রভাব পড়ছে।আর সেই জন্য বছরের যে কোন সময়ই প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।  আর সেই আশঙ্কা মতন বাতাসে উত্তাপ বাড়লেই নিন্মচাপ থেকে বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয় সাগরে। সুন্দরবন সহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলি আজও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষ্মী বহন করে আসছে। এবার সেই ধরনের বিপর্যয় থেকে সুন্দরবনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলো ন‍্যাজাটের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ওই সংগঠনেরই সদস্য শুভাশিস মন্ডলের উদ্যোগে দক্ষিণ ২৪ পরগণার গোসাবা থেকে গেঁওয়া, বাণী, ক‍্যাওড়া ও হেতালের মতো একাধিক ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা এনে তা রোপন করার কাজ চলছে সন্দেশখালির প্রত্যন্ত গ্রাম গুলিতে। আর সেই চারা গাছ গুলি থেকে ম্যানগ্রোভের বিশেষ প্রাচীর তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। যার ফলে ঝড়ের সময়ে গ্রামগুলির বিশেষ ক্ষতি হবে না বলে মত সংগঠনের এক সদস্যের।ম্যানগ্রোভের এই প্রাচীর তৈরি করা হচ্ছে নদী ও বাঁধের ঠিক মাঝখানে। ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূল গুলি একে অপরের সাথে এতটাই প্রবলভাবে জড়িয়ে থাকে যে প্রবল জলোচ্ছাসেও গ্রাম গুলিকে রক্ষা করবার পাশাপাশি আগামী দিনে সুন্দরবনের কোনো বাঁধ তৈরি হলে তা রক্ষা করতে পাবে । যার ফলে প্লাবনের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে বলে মত পরিবেশ প্রেমীদের।

এক গ্রামবাসী জানান, তারা যে ঝড় দেখেছিলেন এবং তার পাশাপাশি প্রবল জলোচ্ছাসে তাদের গ্রাম ভেসে গিয়েছিল। এই ম্যানগ্রোভ থাকলে হয়তো সেই জলোচ্ছ্বাস অনেকটাই কম হতো বলে জানান ওই গ্রামবাসী।বিগত বছরে উপকূলবর্তী অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ের ঘূর্ণিঝড় গুলিতে প্রবল ক্ষতিগ্রস্থ হয় সুন্দরবন সহ উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এমনকি এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে উপকূলের বিভিন্ন জনবসতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই সমস্যার সমাধান পেতে সুন্দরবন বাসীর কাছে মুক্তির বার্তা পৌঁছে দিল এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগ।

About Post Author