Home » বারাসাত আদালতে আত্মসমর্পন চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারের

বারাসাত আদালতে আত্মসমর্পন চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারের

সময় কলকাতা ডেস্ক :  গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতেই অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন জানিয়ে বারাসাত আদালতে আত্মসমর্পন করছেন অশোকনগর- কল্যাণগড় পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকার। মঙ্গলবার বারাসাত আদালতে তাঁর আইনজীবী ইতিমধ্যেই তাঁর হয়ে জামিনের আবেদন দাখিল করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরেই শুরু হবে শুনানি।জনৈকা মহিলাকে মারধর,ভীতি প্রদর্শন এবং জাতিবিদ্বেষগত মন্তব্য সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল অশোকনগর- কল্যাণগড় পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারের বিরুদ্ধে। অতঃপর বারাসাত আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে প্রবোধ সরকারের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য,ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত প্রবোধ সরকারের বিরুদ্ধে এবার আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতেই রীতিমত অস্বস্তিতে পড়েছিল অশোকনগর -কল্যাণগড় পুরবোর্ড ও শাসকদল তৃণমূল।অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে এই ঘটনার নেপথ্যে জেলার জনৈক প্রাক্তন বিধায়কের জড়িয়ে থাকার বিষয়টিও।আইনি বিষয়টির প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলের চিত্রও প্রকট।

প্রবোধ সরকার অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেওয়ার দেড়মাস কাটতে না কাটতেই বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বারাসাত আদালত । চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারের বিরুদ্ধে সোমবার ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে । ৫০৬,৩২৫, এসসি এসটি অ্যাক্ট সহ একাধিক ধারায় আগেই মামলা রুজু হয়েছিল।আর এই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জারি হল গ্রেফতারি পরোয়ানা।শুধু প্রবোধ সরকারই নন,তাঁর স্ত্রী রুমা সরকার এবং প্রদীপ সিংহের বিরুদ্ধে ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বারাসাত আদালত।বারাসাত আদালতের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের নির্দেশ তোলপাড় ফেলেছে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা রাজনীতিতে।

সূত্রের খবর, যে মহিলাকে মারধর, হুমকি ও জাতিগত কুমন্তব্য করা হয়েছে তাঁকে একটি ভাইরাল ভিডিওতে জেলার জনৈক প্রাক্তন বিধায়কের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। অতঃপর গত বিধানসভার টিকিট পেয়েও শেষমুহূর্তে তাঁর বদলে নির্বাচনে অন্য মুখ আনে তৃণমূল।নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক আইনজীবী জানান, ওই মহিলাকে প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে বলে ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে চলেছিলেন চেয়ারম্যান ও অন্য অভিযুক্তদ্বয়। মহিলা প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর এবং তাঁর জাতিগত অবস্থান তুলে গালাগালি করা হয়েছিল যার ফলশ্রুতি মহিলার অভিযোগ দায়ের। বারাসাত আদালত এই অভিযোগের  গুরত্বের দিক থেকে যাথার্থ্য বিবেচনা করে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার প্রবোধ সরকারের জামিনের আবেদনের ভিত্তিতেই এদিনের শুনানিপর্ব। পরবর্তী নির্দেশ কি হয় সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞ মহল।।

About Post Author