Home » গ্রাহকরা রেশন সামগ্রী নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে, দূরে দাঁড়িয়ে কারা ?

গ্রাহকরা রেশন সামগ্রী নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে, দূরে দাঁড়িয়ে কারা ?

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ধুপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা ২নং জিপির খট্টিমারি বাজার সংলগ্ন রেশন সামগ্রী গ্রাহকদের থেকে ফোড়ে পাইকারদের হাতে তুলে দেওয়ার খবর প্রথম “সময় কলকাতার বৈদ্যুতিন মাধ্যমে প্রচার করা হয়। শুক্রবার রেশন সামগ্রী ভর্তি একটি ট্রাককে চালক সহ গ্রামবাসীরা আটক করে বিক্ষোভ দেখায়। ঘটনাস্থলে ধুপগুড়ি থানার পুলিশ এসে ট্রাক ও চালককে আটক করে নিয়ে যায়।

এই খবর চাউর হতেই বিভিন্ন মহলে মন্তব্য এর ঝড় ওঠে। প্রশ্ন ওঠে কিভাবে সরকার প্রদত্ত রেশন সামগ্রী পাইকারদের গোডাউনে মজুত হচ্ছে। আঙ্গুল তোলা হচ্ছিল সরকারের দেওয়া রেশন সামগ্রীর মান নিয়ে। আজ সমস্ত কিছুর উত্তর খুঁজে পেতেই সময় কলকাতার জলপাইগুড়ি জেলা প্রতিনিধি পৌঁছে যায় ধুপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা ২নং জিপির খট্টিমারি বাজার সংলগ্ন ন্যায্য মূল্যের রেশন দোকানে। সময় বলবে সময়ের কথা। হ্যাঁ একদম তাই। ক্যামেরায় প্রথমেই ধরা পড়ল সুদীর্ঘ লম্বা লাইন ধরে সারিবদ্ধভাবে রেশন দোকানের সামনে গ্রাহকেরা হাতে ব্যাগ বস্তা নিয়ে রেশন সামগ্রী নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে। লাইনের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে দাঁড়িয়ে রয়েছে ফোড়ে পাইকারের দল। শুধু পাইকার ফোড়েরা নয়। এই দলে রয়েছে রেশন দোকানের কর্মীও ,যদিও রেশন ডিলার সাফ জানিয়ে দেন, ঐ কর্মী কোন একটা সময়ে তাদের কর্মচারী ছিল। কিন্তু বর্তমানে রেশনের কাজে যুক্ত নয় সে।

ব্যাগ বস্তায় রেশন দোকানের তরফে সামগ্রী দেওয়া মাত্রই। ছুটে আসছে পাইকার। চলছে দর কষাকষি। হিসেব মিলতেই গ্রাহকের হাত থেকে ব্যাগ বস্তা নিয়ে সোজা নিজ গন্তব্যে। এই দৃশ্যের কিছুটা সংযোগও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রেশন দোকান থেকে একটু দূরে বাজারের ভেতর গলিপথ।আর সেখানেই পাইকারদের অলিখিত গোডাউন।আর গ্রাহকেরা নিজেই নিজের রেশন সামগ্রী নিয়ে ছুটে যাচ্ছে পাইকারের দুয়ারে।

এদিন আমাদের প্রতিনিধির মুখোমুখি হয়ে বেশ কয়েকজন গ্রাহক বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, রেশনে আতপ চাল দেওয়া হয়,যা বাঙালিরা কেউ মারা গেলে ধর্মীয় রীতি পালন করতে খায়। দাবি করছেন এই চাল বন্ধ করে দৈনন্দিন এর চাল দেওয়া হোক। পাশাপাশি আটা ও গম বিক্রেতা গ্রাহকদের প্রশ্ন করলে তারা আমরা প্রতিনিধির সঙ্গে বচসায় জড়ায়। এমনকি চর মারার হুমকি দেয়। তবে এর মাঝেও দেখা মিলল বেশ কিছু গ্রাহক আনন্দেই তাদের প্রাপ্ত রেশন সামগ্রী বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।

এখানেই শেষ নয়। এদিনের গ্রাউন্ড জিরো কভারেজে উঠে আসে এই ফোরে পাইকারদের মজুত করা রেশন সামগ্রীর জন্য একটি নব নির্মিত বাড়ি। যেখানে থরে থরে বস্তা হলুদ প্লাস্টিক দিয়ে ডাকা দেওয়া। যদিও গোটা বিষয় এড়িয়ে গেছেন উক্ত রেশন ডিলার। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন ওনার অজান্তেই এইসব হচ্ছে।

About Post Author