Home » কোর্টে বিরোধী প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গিয়ে নিজেই পড়লেন ফাঁপড়ে

কোর্টে বিরোধী প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গিয়ে নিজেই পড়লেন ফাঁপড়ে

সময় কলকাতা ডেস্কঃ এ যেন ঠিক কেঁচো খুঁড়তে কেউটে সাপ বেরিয়ে পড়ল। বিজেপি প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মামলা করতে গিয়ে নিজেই পড়ে গেলেন ফাঁফড়ে। খোদ তারই নাগরিকত্ব নিয়ে উঠে গেল প্রশ্ন। ঘটনাক্রমে জানা যায় ২০২১ সালে  বনগাঁ দক্ষিণ বিধান সভা কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হন আলোরানী সরকার।কিন্তু বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদারের কাছে ২০০৪ ভোটে পরাজিত হন আলোরানী। এরপররেই তাঁকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি করে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস।কিন্তু সম্প্রতি দল তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।এরপরই এদিন তার বিপক্ষ বিজয়ী বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদারের শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যতা জাচাই নিয়ে হাই কোর্টে মামলা করেন আলোরানী সরকার। কিন্তু খোদ মামলাকারীই ফ্যাসাদে পড়ে গেলেন। তৃণমূল প্রার্থীর নাগরিকত্ব নিয়ে উঠল প্রশ্ন। জানা গিয়েছে তৃণমূলের হয়ে লড়লেও সরকারি তরফে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে আলোরানী সরকারের।আর এই অভিযোগেই তার ইলেকশন পিটিশন খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।

জানা গিয়েছে যে ১৯৬৯ সালে হুগলির বৈদ্যবাটিতে জন্ম হয় আলোরানীর ।মাত্র ১১ বছর বয়সে বিয়ে হয় তার।১৯৮০ সালে বাংলাদেশের ডাক্তার হরেন্দ্রনাথ সরকারের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল আলোরানী সরকারের। বিয়ের পর স্থায়ীভাবে বাংলাদেশের বরিশালের উজিরপুরেই থাকতেন তিনি। বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে তার। এমনকি বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রও মেলে আলোরানীর কাছে।

বর্তমানে অবশ্য পশ্চিমবঙ্গেই থাকেন আলোরানী সরকার।উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার তন্তুবায় রোড এলাকায় থাকেন তিনি।এরপরই রাজনীতির ময়দানে আসেন আলোরানী।২০১৬ সালে বিজপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে দাঁড়ান তৃণমূলের মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের বিরুদ্ধে।কিন্তু শুভ্রাংশুর কাছেও হেরে যান তিনি।তবুও হাল ছাড়েননি আলোরানী।এরপরেই তৃণমূলের টিকিটে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ দক্ষিণের প্রার্থী হন তিনি।কিন্তু বিজেপির স্বপন মজুমদারের কাছে ২০০৪ ভোটে হেরে যান আলোরানী।পরবর্তীতে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদে অভিষেক হয় তার।তবে সেই পদে বেশিদিন থাকতে পারেননি তিনি।পুরভোটে টাকা নিয়ে দলে প্রার্থী দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।এরপরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় তৃণমূল নেতৃত্ব।সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে।কিন্তু এবার আবারও বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদারের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে তিনি অভিযোগ আনেন যে ভুয়ো শিক্ষাগত সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন স্বপন বাবু।কিন্তু সেই মামলায় হাইকোর্টে মুখ পুড়ল আলোরানী ও তার দল তৃণমূলের।তার দায়ের করা পিটিশন খারিজ করে নির্বাচন কমিশনকে তার নাগরিকত্ব খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

আদালতের রায়ে জানা যায়, মামলার শুনানির সময়ও আলোরানি সরকার বাংলাদেশের নাগরিক । ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রেও তার নাম রয়েছে। তৃণমূল প্রার্থীর পরিবারের লোকজনও বাংলাদেশে থাকেন।যদিও তিনি বৈবাহিক সূত্রে বর্তমানে এ দেশের বাসিন্দা। কিন্তু নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ও বাংলাদেশের ভোটার লিস্টে তাঁর নাম ছিল।সুতরাং এখন  প্রশ্নের মুখে আলোরানী সরকারের নাগরিকত্ব নিয়ে। আদৌ তিনি ভারতীয় না বাংলাদেশী !

 

 

About Post Author