Home » কেন্দ্র-রাজ্যের যাঁতা কলে পড়ে জুটছে না এক মুঠো অন্ন

কেন্দ্র-রাজ্যের যাঁতা কলে পড়ে জুটছে না এক মুঠো অন্ন

সময় কলকাতা ডেস্কঃ সরকারি ১০০ দিনের কাজ করিয়ে নিয়ে মিলছে না তাদের ন্যূনতম বেতন টুকুও। আজ ৯ মাস হয়ে গেল তারা তাদের ১০০ দিনের কাজের মজুরি পেতে প্রশাসনের দোরে দোরে ঘুরছেন।কখনও জেলাশাসক দপ্তর তো কখনও  জেলা পরিষদ ভবন তো আবার কখনও সাংসদের বাড়ির দোরে। কোথাও মিলছে না কোন আশ্বাস।তাদের বক্তব্য কেন্দ্র টাকা দেয়নি তাই তারাও দিতে পারছে না তাদের ১০০ দিনের কাজের টাকা।কেন্দ্র আর রাজ্যের যাঁতা কলে পড়ে আজ  শ্রমিকদের পরিবারের মুখে জুটছে না এক মুঠ অন্ন।

এক প্রকার বাধ্য হয়েই পশ্চিমবঙ্গ ক্ষেত মজদুর সমিতির পক্ষ থেকে জেলাশাসক দপ্তর, জেলা পরিষদ ভবন ও সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে শ্রমিক ও তাদের পরিবারগুলি।

যদিও রাজ্য পঞ্চায়েত দফতর সূত্রে খবর, গত ন’মাসের পাওনা বাকি রাজ্যের। সব মিলিয়ে সাত হাজার ২৯ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র সরকার তা অন্যায় ভাবে আটকে রেখেছে বলে রাজ্য সরকারের অভিযোগ।

এদিকে, কাজ করার পরেও দীর্ঘ ৬ মাসের টাকা বকেয়া থাকায়, পরিবার নিয়ে পথে বসার জোগাড় শ্রমিকদের। যদিও, তারই মাঝে কারো কারোর অভিযোগ ১০০ দিনের কাজই পাননি তারা। উপরন্তু তাদের অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজ নিয়ে এলাকায় দুর্নীতি হয়েছে। এমনকি তাদের গুরুতর অভিযোগ শ্রমিক নয়, রাতের অন্ধকারে ১০০ দিনের কাজ করতে নামানো হয়েছে জেসিবি মেশিন। তারপর সেই কাজের নামে শ্রমিকদের পাওনা টাকা চলে গেছে জেলার নেতাদের পকেটে।

আন্দোলনে সামিল এমন কয়েকজন সরাসরি অভিযোগের আঙ্গুল তুললেন পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত মেম্বারের দিকে। তারাই রাতের অন্ধকারে ১০০ দিনের কাজ করিয়ে নেয় জেসিবি মেশিন দিয়ে। তাদের অভিযোগ, আমরা আমাদের ভোট দিয়ে যায়। আর যারা জিতে যায় তারা তাদের বৌ ছেলে মেয়েকে  ৫ বছরের জন্য রাজা বানিয়ে দেয়। আর আমারা ১০০ দিনের কাজ ও পায়না। কাজ করলেও তার মজুরিও পায়না।

কিন্তু কেন? প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গ ক্ষেত মজদুর সমিতির সদস্যরা। প্রশাসনের কাছে তাদের একটাই প্রশ্ন, প্রত্যন্ত গ্রাম বাংলার দুঃস্থ মানুষের কর্মসংস্থানের এ কেমন ছবি? মাসের পর মাস টাকা না পেয়ে, পরিবার নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে খেটে খাওয়া মানুষগুলো? কেন ১০০ দিনের কাজ নিয়ে বারংবার উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ? জঙ্গলমহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা পুরুলিয়া কি  এভাবেই হাসছে? যেখানে কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় কাটে দিন রাত।

About Post Author