Home » মেধাবীর স্বপ্নের পথে কাঁটা অর্থ

মেধাবীর স্বপ্নের পথে কাঁটা অর্থ

সময় কলকাতা ডেস্কঃ রাজ্যে একদিকে শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে কাড়ি কাড়ি টাকা উদ্ধার ঘিরে যখন তোলপাড় চলছে, তখন সেই টাকার অভাবই তিলে তিলে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে মাম্পি দাসের স্বপ্নকে। স্নাতকস্তরে জিওগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা করলেও তাঁর ইচ্ছে সে সেবিকা হিসেবে পরিষেবা দেবে। মেধাতালিকায় নাম এলেও সে পড়াশোনা করতে পারবে কিনা, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

শিক্ষায় মেধা যখন আর্থিক প্রতিকূলতার কাছে হার মানে সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মনের মধ্যে নিজের তৈরি করা স্বপ্নের প্রদীপের নিভতে থাকা সলতেটাকে জ্বালিয়ে রাখাটাই কঠিন হয়ে যায়। এই অসম যুদ্ধের মুখোমুখি মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার কালিকাপুর গ্রামের এক মেধাবী ছাত্রী মাম্পি দাস। অভাবের সংসারে থেকেও স্কুল পেরিয়ে বর্তমানে কলেজের গণ্ডি পেরিয়েছে সে। চাঁচল কলেজে ভূগোল স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর চোখে সেবিকা হওয়ার স্বপ্ন ভাসছে। মেধা এবং পরিশ্রমকে সঙ্গী করেই সে সরকারিভাবে জিএনএম এবং এএনএমের ফর্ম ফিলআপ করে। পরীক্ষাও দেয় এবং ফলাফলস্বরূপ মেধাতালিকায় সে সরকারিভাবে জায়গা করে নিয়েছে। এই কৃতিত্বের জন্য সে তাঁর শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাতে ভোলেনি। কিন্তু রেজাল্টের কথাটা বলতে গিয়েই তাঁর গলা বুজে আসছে।

কারণ নুন আনতে পান্তা ফুরোয় এমন বাড়িতে জন্ম হয়েছে তাঁর। বাবা কৃষ্ণকান্ত দাস পেশায় টোটো চালক। বাড়িতে রয়েছে একটি ছোট বোন। স্বাভাবিকভাবে বাড়ির বড় মেয়ে হয়ে নিজেকে সেবিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথে অন্তরায় হয়ে উঠছে পরিবারের আর্থিক সঙ্গতি। সরকারি ভাবে সুযোগ পেলেও কিভাবে কয়েকটা বছর প্রশিক্ষণ চলাকালীন অতিরিক্ত খরচ বহন করবে সে, এখন সেই ভেবেই দিশেহারা দাস পরিবার।

টাকা দিয়ে আনন্দ হয়ত কেনা যায় না, কিন্তু স্বপ্ন পূরণের চাবিকাঠি সেই টাকার হাতেই থাকে। এই টাকার কারণে কত মাম্পি স্বপ্ন দেখাই ছেড়ে দেয়। আখেরে এমন যোগ্য ছেলেমেয়েরা এইভাবেই অন্ধকারে হারিয়ে যায়। জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার লড়াই এতই কঠিন হয়ে যায় যে স্বপ্ন দেখাটাই বিলাসিতা হয়ে ওঠে।

About Post Author