সময় কলকাতা ডেস্কঃ রাজাও নেই, রানিও নেই, নেই রাজ-আমলও। জমিদারির পাট চুকেছে বহুকাল। তবুও রয়ে গিয়েছে ঐতিহ্য। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত কৃষ্ণনগর রাজ বাড়িতে শুরু হল রাজ রাজেশ্বরীর পুজো। কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা রাজ রাজেশ্বরী নামেই পরিচিত।

প্রথা অনুযায়ী উলটো রথের পরের দিনই প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। রাজ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মূর্তি তৈরি করতেন বিখ্যাত শিল্পী সাধন পাল। রাজ রাজেশ্বরীর সামনের দুটি হাতই বড়। তবে,পিছনের আটটি হাতগুলো তুলনামূলক ভাবে ছোট হয়। দেবীর গায়ে থেকে বর্ম। দেবী থাকেন একেবারে রণং দেহি সাজে। দেবী রাজ রাজেশ্বরী সিংহের বদলে ঘোড়ার ওপরে বিরাজ করেন। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির রাজ রাজেশ্বরীর মূর্তি একেবারেই আলাদা। প্রাচীন রীতি মেনে আজও রাজ রাজেশ্বরীর পেছনের চালিতে চালচিত্র দেখা যায়। অতিমারির কারণে গত দু’বছর করোনা বিধি নিষেধ মেনেই রাজবাড়ির সদর দরজা বন্ধ রেখে পুজো হয়েছিল। এ বছর সর্বসাধারণের জন্যই খুলে দেওয়া হয়েছে রাজবাড়ির সদর দরজা। ইতিমধ্যেই দূর-দুরান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী উপস্থিত হয়েছেন রাজরাজেশ্বরী দর্শনে।

আজও চিরাচরিত রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের রাজবাড়িতে। পুজোর পাঁচ দিন কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো দেখতে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। অন্যদিকে কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ির ভোগেও রয়েছে এলাহি আয়োজন। পুজোর পাঁচ দিনই বিভিন্ন রকমের ভোগ নিবেদন করা হয়। খিচুড়ি, ভাজা সহ একাধিক তরকারি, চাটনি, সুজি, পায়েস থাকে পুজোর ভোগে। এমনকী সপ্তমীতে সাত রকমের ভাজাও হয়। অষ্টমীতে পোলাও, ছানার ডালনার সঙ্গে ভাত, আট রকম ভাজা, মিষ্টি, ক্ষীর সহ একাধিক পদ থাকে। নবমীতে নয় রকম ভাজা, তিন রকম মাছ, ভাত, মিষ্টি থাকে। দশমীতে গলা ভাত, সিঙি মাছ, খই, ফল, দই, চিড়ে ভোগ দেওয়া হয়।


More Stories
হর্ষ-বিষাদে পালিত ঈদ-উল-আযহা
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে