সানি রায় সময় কলকাতা , ২৮ মে : ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে শান্তি ও সম্প্রীতির আবহ। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরেও শান্তি সম্প্রীতির বার্তা। হর্ষ-বিষাদে উদযাপন উৎসব। সারা বঙ্গের মতো উত্তরবঙ্গেও পালিত ঈদ উল আযহা, কুরবানি কার্যত বন্ধ থাকায় আক্ষেপ গরিব মানুষের।
এদিন রাজ্যপাল ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ঈদ-উল-আযহার উপলক্ষ্যে রাজ্যবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজ্যপাল আর এন রবি,লোক ভবনের তরফে এক্স পোস্টে জানানো হয়েছে এই উৎসব সকলের মাঝে সম্প্রীতি ও একতার চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করুক এবং সকলের জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ। এদিকে, ইদ-উল-আযহার উপলক্ষ্যে রাজ্যের বাসিন্দাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, এই উপলক্ষটি সকলের জীবনে আশা, শান্তি ও আনন্দ বয়ে আনুক।
কলকাতার রেড রোডের পরিবর্তে এ বছর শহরের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রিগেড প্যারেড রাউন্ডে। রেস কোর্সের (Royal Calcutta Turf Club) ঠিক পাশেই অবস্থিত এই ব্রিগেড ময়দানে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে নামাজ ও বিশেষ মোনাজাত সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শান্তি, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উৎসবে মেতে ওঠে গোটা ডুয়ার্স। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, বানারহাট, ধূপগুড়ি, নাগরাকাটা, মালবাজার, বীরপাড়া-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ঈদগাহ মাঠ ও মসজিদে সকাল থেকেই ভিড় জমান মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।
নতুন পোশাক, প্রার্থনা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব। তবে এবারের ঈদুল আযহায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে কুরবানি প্রসঙ্গ। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা, প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং আদালতের পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে বহু এলাকাতেই প্রকাশ্যে কুরবানি থেকে বিরত থাকেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করাকেই প্রাধান্য দেন সকলে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির উপর। কারণ, প্রতি বছর কুরবানির সময় বহু গরিব মানুষ মাংস পান, যা অনেক পরিবারের কাছে বছরের বিশেষ প্রাপ্তি হয়ে ওঠে। এবারে সেই সুযোগ না মেলায় অনেকের মধ্যেই আক্ষেপ দেখা যায়। তবুও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে পরিস্থিতিকে মেনে নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। রাজ্য সরকারের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, আইন মেনে ও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করেই ঈদ উদযাপন করতে হবে। কোথাও যেন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই দিকেও বিশেষ নজর রাখা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালনের বার্তা দেয় এবং প্রশাসনকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে গোটা জেলা জুড়ে ছিল আঁটসাঁট নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বানারহাট থানাসহ বিভিন্ন থানার পুলিশ সকাল থেকেই এলাকায় টহলদারি চালায়। প্রত্যেক ঈদগাহ মাঠে মোতায়েন করা হয় পুলিশ বাহিনী। বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে গোটা ডুয়ার্স জুড়ে নজরদারি চালানো হয় যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে। ডুয়ার্সের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে দেখা যায়, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন কুরবানি না হওয়ার আক্ষেপ রয়েছে, অন্যদিকে তেমনই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব পালন করার আনন্দও স্পষ্ট। অনেকেই জানান, ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সম্প্রীতিকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা। দুরামারি মসজিদ কমিটির সদস্য মহবুল আলম, আনিয়াল রহমান, জাকির হুসেন, আফিজার রহমান ও বুলবুল ইসলাম জানান, আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই ঈদ পালন করেছি। কুরবানি না হওয়ায় কিছুটা দুঃখ তো রয়েছেই, কারণ অনেক গরিব মানুষ এই সময় মাংস খেতে পান। তবে শান্তি ও সম্প্রীতির কথা ভেবেই আমরা সকলে নিয়ম মেনে চলেছি। তার মধ্যেও ঈদের আনন্দ ও খুশি মানুষের মধ্যে রয়েছে। সব মিলিয়ে, কুরবানি ঘিরে নানা আলোচনা ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির আবহের মধ্যেও গোটা ডুয়ার্স জুড়ে শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হলো পবিত্র ঈদুল আযহা। সম্প্রীতি, সংযম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তাই এবারের উৎসবে সবচেয়ে বেশি করে উঠে এল মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে।।


More Stories
দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে বিপদ,সৌগত রায়কে লক্ষ্য করে উড়ে এল পচা ডিম
রাজনৈতিক সংঘর্ষ,গুরুতর আহত বিজেপি জেলা সভাপতি, বারাসাত জ্বলছে
“দত্তপুকুরের শাহজাহান “গোপাল কাঞ্জিলালকে আদালতে তোলা হল