সময় কলকাতা ডেস্ক:দেশে এমন একটি রেল স্টেশন আছে যেখানে আড়াই বছর একজন যাত্রীও পা রাখেনি। শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটা সত্যি। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে একটি রেলস্টেশন পড়ে রয়েছে চরম অবহেলায়। সুন্দর সাজানো রেলস্টেশনে ,রয়েছে বড় বড় বিল্ডিং। অথচ আড়াই বছরের অবহেলায় সেই রেল স্টেশনে এখন গজিয়েছে আগাছা। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা মাঝেমধ্যে সাইকেল নিয়ে প্ল্যাটফর্মে খেলাধুলা করলেও, দেখা মেলে না কোন যাত্রীর। ঝাড়খণ্ডের রাঁচি রেল বিভাগের থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই রেল স্টেশনটি। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে একটিও যাত্রীবাহী ট্রেন পৌঁছায়নি এই স্টেশনে। স্টেশনটির নাম মেসরা স্টেশন। অথচ আড়াই বছর আগে এই স্টেশনে আসতেন শত শত যাত্রী।

যাত্রীদের কোলাহলে মুখরিত থাকতো স্টেশন। অথচ আজ আগাছার জঙ্গল ,আর স্টেশন বিল্ডিং- এ ঘুরে বেড়ায় গবাদি পশু। পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন করা হয়নি বিগত আড়াই বছর। বিল্ডিং জুড়ে চারিদিকে মাকড়সার জাল, বহু জানালা- দরজা চুরি হয়ে গিয়েছে এর মধ্যে। জলের ট্যাঙ্ক ফুটো হয়ে নোংরা জল পড়ে কল থেকে। প্ল্যাটফর্মে বসার জায়গা ভেঙে পড়ে গিয়েছে। বছরখানেক আগে ঝড়ে ভেঙে গিয়েছে স্টেশন বিল্ডিং -এর বহু কাচের জানালা।

কিন্তু কেন এই অবস্থা?
লকডাউনের আগে নতুন করে সিগনালিংয়ের ব্যবস্থা আর স্টেশন মেরামতির কাজ শুরু করেছিল রেল দপ্তর। নতুন করে রেললাইন পাতার কাজও শুরু করেছিল রেল দপ্তর। করোনা পরিস্থিতিতে রেল চলাচল বন্ধ থাকার পর, আর রেল পরিষেবা শুরু হয়নি এই লাইনে। সানকি থেকে সিদ্ধেশ্বর পর্যন্ত রেললাইনের কাজ শুরু হয়েও শেষ হয়নি। সে কারণেই বারকানা পর্যন্ত রেললাইন সংযোগ করা যায়নি। ফলে আড়াই বছর কোন যাত্রীর পা পড়েনি এই মেসরা রেলস্টেশনে।
কি বলছে রেল দপ্তর?
ধানবাদ রেলওয়ে বিভাগের সিনিয়র ডিসিএম অমরেশ কুমার জানিয়েছেন, সানকি থেকে সিদ্ধেশ্বর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের কাজ চলছে। চলতি বছরই এই রেললাইন নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কয়েক মাসের মধ্যেই রেল চলাচল শুরু হবে এই লাইনে। সেক্ষেত্রে আবার নতুন করে রেল সুবিধা পাবেন এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
রেল চলাচল শুরু হলে, আবার পুরনো অবস্থায় ফিরে আসবে চরম অবহেলায় পড়ে থাকা এই মেসরা স্টেশন।


More Stories
পরিবারের সম্মতি ছাড়া সোনম ওয়াংচুকের কোনও চিকিৎসা নয়, জানালেন স্ত্রী
শতাধিক মহাকাশ বিজ্ঞানীর ইস্তফায় নতুন নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রীয় সরকারের
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ