Home » মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ ইডি-র

মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ ইডি-র

সময় কলকাতা ডেস্কঃ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করল ইডি। সূত্রের খবর,শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকেন তাপস মণ্ডল। এদিন তাঁকে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জেরা করা হয়। এমনকী তাঁর বয়ানও এদিন রেকর্ড করেছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
জানা গিয়েছে,শনিবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তাপসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এদিন তাপস মণ্ডলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ডিএলএড কলেজে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও কীভাবে অফলাইনে চাকরিপ্রার্থীদের ভর্তি করা হয়েছিল, আইনে তার কোনরকম সংস্থান আছে কি না, সেই জন্য ছাত্র পিছু ৫ হাজার টাকা করে মোট যে ২১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেটা কীভাবে ও কার কাছে পাঠানো হয়? ওই টাকার ভাগ আরও কেউ পেয়েছেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখতে চাইছেন ইডি।


প্রসঙ্গত,নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বারাসাতেও তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। এরপরই বারাসতে কামাখ্যা মন্দিরের কাছে মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ একটি টিচার্স ট্রেনিং সেটারের কর্ণধার তাপস মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের একটি বড় দল। প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তাপস মণ্ডল প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত রয়েছে বলেই ইডি সূত্রের খবর। জানা গিয়েছিল,মানিক ভট্টাচার্যকে জেরা করে তাঁর বাড়ি থেকে যেসব কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে তা থেকেই এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। তবে শুধু এই ট্রেনিং সেন্টারই নয়,এরকমই বেশ কয়েকটি ট্রেনিং সেন্টার নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই সব ট্রেনিং সেন্টারই মিডলম্যানের কাজ করত।


ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে,তল্লাশি অভিযানের পর তাপস মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রচুর নথিপত্র, ব্যাংকের স্লিপ, ফর্ম, খামের ভিতর থাকা প্রচুর চিঠি। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চিঠিও উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি ইডির। বহু ছাত্র-ছাত্রীর নাম ও ছবি পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন কি না, তার খোঁজ নিচ্ছে ইডি। সেইসঙ্গে একটি মোবাইলও বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ওই মোবাইলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ চ্যাট থাকতে পারে, যা এই মামলার তদন্তে সহযোগিতা করবে।
সূত্রের খবর,তাপস মণ্ডল একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। জাতীয় শিক্ষক সম্মানও পেয়েছিলেন তিনি। মিনার্ভা এডুকেশনাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে একটি সংস্থা খুলেছিলেন তাপস। সেই সংস্থার মাধ্যমেই এস‌এসসি দুর্নীতির টাকা লেনদেন হত বলেই দাবি ইডি আধিকারিকদের। বিদেশে মুদ্রা লেনদেনের জন্য এফসিআর ছাড়পত্র‌ও জোগাড় করেছিলেন মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস।

About Post Author