Home » নেত্রী গিলে ফেললেন প্রমাণপত্র

নেত্রী গিলে ফেললেন প্রমাণপত্র

Oplus_131072

সানি রায়, ৭ জুন : তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য, তদন্তের দাবি, নেত্রী প্রমাণ লোপাট করতে গিলে ফেললেন প্রমাণপত্র। জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা ব্লকের বানারহাট থানার অন্তর্গত আংরাভাষা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ধুমপাড়া এলাকায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ কৃষি সরঞ্জাম এক তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে মজুত থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সময়মতো বিষয়টি প্রকাশ্যে না এলে ওই সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে ফেলা বা পাচারের আশঙ্কা ছিল।অভিযোগ অনুযায়ী, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে স্বীকৃতি সংঘের অধীনে থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ব্যবহারের জন্য আনা উইডার, ধান ঝাড়াই মেশিন, সার, মাছের খাদ্য-সহ একাধিক কৃষি সরঞ্জাম সংঘের নিজস্ব ভবনে রাখার কথা থাকলেও সেগুলি দীর্ঘদিন ধরে উত্তর ধুমপাড়ার একটি বাড়িতে সংরক্ষিত ছিল। স্থানীয় বিজেপি নেতা নিরঞ্জন সরকারের দাবি, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লক্ষ টাকারও বেশি। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি সামনে না এলে ওই সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা ছিল।এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য সংঘ পরিচালনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সদস্যদের অন্ধকারে রেখে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংঘের কাজকর্মে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা নেই।তবে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছেন বাড়ির মালিক তথা তৃণমূল নেত্রী সবিতা রায়। তাঁর দাবি, সংঘ ভবনে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব এবং অতীতে চুরির ঘটনার কারণে সংঘের সিদ্ধান্ত মেনেই সাময়িকভাবে ওই কৃষি সরঞ্জামগুলি তাঁর বাড়িতে রাখা হয়েছিল। এগুলি শুধুমাত্র নিরাপদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানান। এদিন শুরু হয় মহিলা সংঘের সদস্যদের বিক্ষোভ। বিক্ষোভে শামিল হয় বিজেপি নেতৃত্বরাও। গোটা ঘটনা যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তুমুল বচসা শুরু হয়, অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রী সংবাদ মাধ্যমের সামনে স্বীকার করে নিয়ে দাবি করেন ঘটনায় তিনি একা জড়িত নন সঙ্গে আরো অনেকেই রয়েছেন।ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সম্পত্তি ও সদস্যদের স্বার্থ সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপের আবেদনও করা হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের আবহে ঘটনার প্রকৃত সত্য প্রশাসনিক তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

About Post Author