Home » ফের প্রকাশ্যে শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল

ফের প্রকাশ্যে শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল

সময় কলকাতা ডেস্কঃ বছর ঘুরলেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগেই ফের প্রকাশ্যে শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের দৌলতনগর গ্রামে। দৌলতনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান তথা বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্য মহম্মদ নজিবুর রহমানকে রাতের অন্ধকারে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠল হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি হজরত আলী এবং হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সমাউন ইসলামের দলবলের বিরুদ্ধে।

জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে পার্শ্ববর্তী বাংরুয়া গ্রামে উরুষ মেলা থেকে ফিরছিলেন মহম্মদ নজিবুর রহমান। সেই সময়ই হঠাৎ মাঝ রাস্তায় তার পথ আটকে দেয় হজরত আলীর দুই ছেলে এবং সামাউন ইসলামের দলবল। এরপরই মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। যদিও এই বিবাদের সূত্রপাত এক বছর আগে পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন নিয়ে। তৃণমূলেরই অন্যান্য পঞ্চায়েত সদস্যদের আনা অনাস্থার জেরে প্রধান পদ খোয়াতে হয় মহম্মদ নজিবুর রহমানকে। অনাস্থা ভোটে তিনি হেরে যান পিন্টু যাদবের কাছে। সেই সময়েও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে শাসকদলের দুই পক্ষ। অভিযোগ ,তারপর বিরোধী দলনেতা করার নাম করে তার কাছ থেকে কুড়ি হাজার টাকা নিয়েছিলেন তৎকালীন ব্লক সভাপতি হজরত আলী। কিন্তু তিনি কাজ করে দিতে পারেন নি। সেই টাকাই বারবার ফেরত চাইলে হুমকি দিয়েছেন। এমনকি মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। কিন্তু হজরত আলীর পাল্টা অভিযোগ তিনি কোন টাকা নেননি। মহম্মদ নজিবুর রহমান প্রধান পদ হারিয়ে ভারসাম্যহীন হয়ে গেছেন। এর আগেও তিনি হজরত আলীকে শরীরিক ভাবে আক্রমণ করেছিলেন সেই বিষয়ে মামলা রয়েছে। সমগ্র ঘটনায় প্রকাশ্যে এসে পড়েছে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘাত। যদিও হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি তবারক হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন দলের মধ্যে কোন রকম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা দুর্নীতি নেই। দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দলের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে মিটিয়ে নেওয়া হবে। সমগ্র ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ যারা দলের মধ্যে পদের জন্য টাকার লেনদেন করে। আগ্নেয়াস্ত্র বোমা গুলি ব্যবহার করে। তারা মানুষের জন্য কি করছে বোঝাই যাচ্ছে। সমগ্র ঘটনা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। অন্যদিকে গোটা ঘটনার বিষয়ে ইতিমধ্যেই হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি তবারক হোসেন চৌধুরী বলেন, দলের মধ্যে কোন দুর্নীতি বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। নজিবুর রহমান যেটা অভিযোগ করেছে সেটা খতিয়ে দেখে দলের মধ্যেই মিটিয়ে নেওয়া হবে। অন্যদিকে এই বিষয়ে উত্তর মালদা জেলা বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল বলেন, দলের মধ্যে পদ দেওয়ার জন্য এরা টাকার লেনদেন করছে। সেই নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি করতে গিয়ে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষের জন্য এরা কি করে সেটা বোঝা যাচ্ছে। মানুষ সব দেখছে জবাব দেওয়ার অপেক্ষা করছে। প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত ভোটকে সামনে রেখে উন্নয়নকে হাতিয়ার করেছে শাসকদল। কিন্তু দুর্নীতি থেকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কিছুতেই যেন পিছু ছাড়ছে না তাদের। বারবার সামনে এসে পড়ছে অভ্যন্তরের সংঘাত। এই ধরনের ঘটনা সাধারন মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহল মহল।

About Post Author