সময় কলকাতা ডেস্কঃ লটারি রহস্যের ধোঁয়াশা যেন কোনওভাবেই কাটছে না। যত দিন যাচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। গরু পাচারের তদন্তে নেমে এবার ইডির দাবি, অন্তত ১২ জন ‘প্রভাবশালী’ লটারি বিজেতার খবর পাওয়া গিয়েছে, যাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই বেআইনিভাবে গরু, কয়লা কিংবা বালি পাচারের অভিযোগ রয়েছে। একটি বিশেষ লটারি কোম্পানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, ইডির দাবি করা এই ১২ জন প্রভাবশালীর ক্ষেত্রে জেতা টাকার অঙ্ক ১ কোটির কম হওয়ায় তাঁদের নাম এবং ছবি দিয়ে কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি। সেই কারণেই তাঁদের লটারি জেতার কথা প্রকাশ পায়নি।
এদিকে এক সপ্তাহ আগেই লটারির হদিস মিলেছে গরু পাচার মামলায় মূল অভিযুক্ত এনামুল হকের নামে। সিবিআই সূত্রে খবর, এনামুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০১৭ সালে জেতা একটি ৫০ লক্ষ টাকার লটারির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। এমনকি সিবিআই-এর তদন্তে হদিস মিলেছে এনামুলের স্ত্রীর নামেও একটি লটারির টিকিটের। যার তদন্ত এখনও চলছে বলেই সিবিআই সূত্রে খবর। গরু পাচার মামলার তদন্তে নেমে এই নিয়ে ষষ্ঠ লটারির টিকিটের হদিস পেয়েছে সিবিআই –এর তদন্তকারী আধিকারিকেরা।
যদিও গরু পাচার মামলার তদন্তে নেমে এর আগে সুকন্যা মণ্ডলের নামে পাঁচটি লটারির হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। লটারির পুরস্কার মূল্য বাবদ কেষ্ট কন্যার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঁচবার লটারির টাকা ঢুকেছে বলে দাবি করেছিল সিবিআই। তবে,এই টাকার সঙ্গে কোনওভাবে গোরুপাচার চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কিনা, ইতিমধ্যেই তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
চলতি বছরেই ডিয়ার লটারিতে এক কোটি টাকা জিতেছিলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। যা রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমত আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এবার এই ঘটনার প্রায় দশ মাস পর অনুব্রতর জেতা সেই লটারি নিয়ে সিবিআই তদন্তে নামতেই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মণ্ডলের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথমে ১০ লাখ টাকা ঢুকেছিল। এরপরই ঘটনার তদন্তে নেমে কেষ্ট-কন্যা সুকন্যার আরও দু’টি অ্যাকাউন্টের হদিশ মেলে। যেখানে লটারির পুরস্কার মূল্য বাবদ মোট ৫১ লাখ টাকা ঢুকেছে। প্রথমে তিন ধাপে মোট ৫১ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে আরও ৫০ লাখ টাকা ঢুকেছে কেষ্ট কন্যার অ্যাকাউন্টে।
প্রসঙ্গত,বোলপুরের ব্যবসায়ী বাপি গঙ্গোপাধ্যায়ের গাঙ্গুলি লটারি নামে একটি লটারির দোকান রয়েছে। সুত্রের খবর,সেখান থেকেই লটারির টিকিট কাটা হয়েছিল। কার্যত সেকারণেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর আগে ১ নভেম্বর নিজাম প্যালেসে তলব করা হয়েছিল লটারি টিকিট বিক্রেতা বাপি গঙ্গোপাধ্যায়কে। সেসময় তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, অনুব্রত নিজে গিয়ে কি ওই টিকিট কিনেছিলেন? নাকি কারও মারফতে কেনা হয়েছিল ওই টিকিট? কতগুলি লটারি কিনেছিলেন এবং কত টাকায় লটারি কিনেছিলেন? যদিও সিবিআই আধিকারিদের দাবি,গরু পাচারের বিশাল অঙ্কের কালো টাকা এই লটারির টিকিটের মাধ্যমেই সাদা করা হত।
চলতি বছরের জানুয়রি মাসেই ডিয়ার লটারির ওয়েব সাইটের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়। যেখানে বলা হয় মাত্র ছয় টাকায় ডিয়ার লটারিতে অনুব্রত মণ্ডল এক কোটি টাকা পেয়েছে। এরপরেই প্রশ্ন ওঠে যে,অনুব্রত মণ্ডল কি সত্যিই লটারি কেটেছিলেন? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরুও হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। যদিও সেসময় অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছিলেন, ‘কোনোদিনই তাঁর লটারি কেনার নেশা ছিল না। তবে তাঁর গাড়ি চালক ও নিরাপত্তা রক্ষীরা প্রায়ই লটারি কিনতেন।’
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ডিয়ার লটারির দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যা নিয়ে শুরু হয়েছিল জোর বিতর্ক। গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির পর থেকেই সিবিআই আধিকারিকদের নজরে ছিল অনুব্রতর বিপুল সম্পত্তি। ইতিমধ্যেই তাঁর সম্পত্তি নিয়ে যাবতীয় তথ্যও খতিয়ে দেখছে সিবিআই। তারই মধ্যে এবার তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে অনুব্রতর জেতা সেই লটারির টিকিট।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি