Home » আসন বাড়িয়ে সংবিধান সংশোধনী তথা মহিলা সংরক্ষণ বিল আনতে ব্যর্থ কেন্দ্র

আসন বাড়িয়ে সংবিধান সংশোধনী তথা মহিলা সংরক্ষণ বিল আনতে ব্যর্থ কেন্দ্র

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ এপ্রিল : আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ করার প্রস্তাবে কেন্দ্রের হার। লোকসভায় ভোটাভুটিতে হার মানতে হলো কেন্দ্রীয় সরকারকে। এই সংবিধান সংশোধনী আইনটিকে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নামে অভিহিত করা হয়েছিল । লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল এই বিলে। সেক্ষেত্রে ২৮০ জন মহিলা সাংসদ নির্বাচিত হতে পারতেন। এই বিলের অন্তর্গত দ্বিতীয় অংশ ছিল,  লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত বিল। এছাড়াও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসনবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে)। প্রথম বিলটি পাশ না হওয়ায়, পরের দু’টি নিয়ে ভোটাভুটির পথে হাঁটেনি কেন্দ্র। অমিত শাহ সরাসরি বিরোধীদের মহিলা বিরোধী আখ্যা দিয়ে কার্যত পরাজয় স্বীকার করে দেন।

বাস্তব হল, শুক্রবার লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল কার্যকর হল না। বিল কার্যকর করতে দরকার ছিল ৩৫২ টি ভোটের কিন্তু বিলের সমর্থনে পড়ে ২৯৮ টি ভোট। স্বাভাবিকভাবেই  মহিলা সংরক্ষণ বিল বা নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম প্রস্তাব গৃহীত হয় নি । শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল ২০২৬, লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬ পাশ করাতে ব্যর্থ কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের রাজনীতিতে মহিলা সংরক্ষণ বিল বা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ কে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছিল , যার লক্ষ্য হলো লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ (এক-তৃতীয়াংশ) আসন সংরক্ষণ করা। তবে এজন্য সংসদীয় ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ হয়ে যেত। এছাড়াও একাধিক প্রস্তাব ছিল এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট জোগাড় করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার।

শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল ২০২৬, লোকসভায় সংবিধান সংশোধন কেন্দ্রিক ও মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬ পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে।সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Special Majority) প্রয়োজন ছিল, যা কেন্দ্র অর্জন করতে পারেনি। বিরোধীরা আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) সংক্রান্ত শর্তাবলীর আগেই বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয় বাকি প্রস্তাবগুলি উত্থাপন করা হয়নি। ১০৬তম সংবিধান সংশোধনী আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মোদী সরকার ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পেশ করেছিল যা সংসদে পাশ হয়। এটি ভারতের সংবিধানে ১০৬তম সংশোধনী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।এই আইনটি কার্যকর করার জন্য শর্ত রাখা হয়েছিল যে, বিলটি পাশের পর প্রথম আদমশুমারি (Census) হতে হবে এবং তার ভিত্তিতে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ বা আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে। বিলের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল লোকসভা, প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভা এবং দিল্লির বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩% আসন সংরক্ষিত থাকবে।প্রস্তাব ছিল- সংরক্ষিত আসনগুলির মধ্যেই তফশিলি জাতি (SC) এবং তফশিলি উপজাতিদের (ST) জন্য অভ্যন্তরীণ কোটার ব্যবস্থা ছিল, সংরক্ষিত আসনগুলি রোটেশন বা আবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হবে, যা প্রতিবার ডিলিমিটেশনের পরে নির্ধারিত হবে। প্রাথমিকভাবে এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা ১৫ বছরের জন্য কার্যকর করার প্রস্তাব ছিল । প্রসঙ্গত,বর্তমানে লোকসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব মাত্র ১৪.৯৪%। তবে মহিলা সংসদদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পুরুষ সাংসদদের সংখ্যাও যে বৃদ্ধি পেত তা বলাই বাহুল্য এবং নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাস করা হতো।।

 

About Post Author