Home » আত্মসমর্পণ কেএলও প্রধান জীবন সিংহের 

আত্মসমর্পণ কেএলও প্রধান জীবন সিংহের 

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ জানুয়ারিঃ যাবতীয় জল্পনায় সিলমোহর। আত্মসমর্পণ করলেন কেএলও নেতা তিমির দাস ওরফে জীবন সিংহ। এমনটাই দাবি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের। ১৩ জানুয়ারি তিনি নাগাল্যান্ডে অসম রাইফেলসের কাছে ধরা দেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে কেএলও-র আরও ৬ জন আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মায়ানমারের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে নাগাল্যান্ডে প্রবেশ করেন জীবন। রাজ্যের মন জেলার নয়াবস্তিতে অসম রাইফেলসের কাছে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

এদিন সংগঠনের তরফে জারি করা ভিডিও বার্তায় দেখা গিয়েছে কেএলও প্রধান জীবন সিংহকেও। ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে কেএলও নেতা তথা জীবন সিংহের ঘনিষ্ঠ বিশ্বজিৎ রায় জানিয়েছেন, তাঁরা ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য জঙ্গল থেকে প্রকাশ্যে আসতে চলেছেন। এদিন কেএলও-র তরফে জারি করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাক্তন আলফা নেতা তথা শান্তি আলোচনায় অন্যতম মধ্যস্ততাকারী দিলীপ নারায়ণ দেবের সঙ্গে পাহাড়ি পথে হেঁটে চলেছেন জীবন সিংহ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আরও কয়েকজন অনুগামী। কারও সঙ্গেই কোনও অস্ত্র নেই। ১৯৯৫ সাল থেকে পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলনের ডাক দেন জীবন সিংহ। তারপর থেকে বহু নাশকতামূলক ঘটনার সঙ্গে নাম জড়ায় কেএলও-র।

উল্লেখ্য,কয়েক বছর ধরেই আত্মগোপন করে আছেন কেএলও প্রধান জীবন সিংহ। জনশ্রুতি ভুটানের গভীর জঙ্গলে সীমান্তের ওপারে আত্মগোপন করে রয়েছেন কেএলও প্রধান। সেখান থেকেই একের পর এক ভিডিও বার্তা তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছে পৌঁছে দেন। কখনো সে বার্তায় থাকে প্রকাশ্যে রাজ্য সরকারকে হুমকি। আবার কখনো বিজেপির বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ। এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে পৃথক রাজ্যের আবেদন জানানোর পাশাপাশি তাদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং আরএসএস, জীবন সিংয়ের এই দাবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

প্রসঙ্গত, এর আগে একাধিকবার তার ভিডিও বার্তা এসে পৌঁছায় সংবাদমাধ্যমের হাতে, যে বার্তায় জীবন সিংহ কখনো কোচ কামতাপুর রাজ্যের দাবীতে সরব হন, আবার কখনো সহিংস আন্দোলনের কথাও বলেন। দুই মাস আগে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জীবন সিংহ হুমকি দিয়েছিলেন পুলিশের কর্তাব্যক্তি এবং প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের প্রতি। তিনি জানিয়েছিলেন যারা কামতাপুর রাজ্যের বিরোধিতা করবেন, তাদেরকে কোচ কামতাপুর অর্থাৎ কোচবিহার থেকে কলকাতায় ফেরৎ যেতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

About Post Author