Home » ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার রহস্য

ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার রহস্য

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৭ ফেব্রুয়ারিঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। শনিবারই হৈমন্তীর ফ্ল্যাটের বাইরে থেকে থেকে উদ্ধার হয় রহস্যজনক কাগজ। যে কাগজে ছাপার অক্ষরে লেখা রয়েছে একাধিক সিরিয়াল নম্বর ও রোল নম্বরের মতোই কিছু সংখ্যা। যা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য। এবার এ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন এক চাকরিপ্রার্থী তথা টেট আন্দোলনকারী। তাঁর দাবি, ‘হৈমন্তীর ফ্ল্যাটের সামনে পাওয়া নথির মাধ্যমেই প্রমাণ হচ্ছে যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক হারে দুর্নীতি হয়েছে। অনেককেই সুপারিশ করা হয়েছিল চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য। হৈমন্তীর বাড়ির সামনে থেকে পাওয়া নামের লিস্ট আমি মিডিয়ার মাধ্যমে পেয়েছি। সেই তালিকায় কিছু রোল নম্বর ছিল। কিন্তু,নাম ছিল না প্রার্থীদের। ওই একই রোল নম্বরে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তিনজন চাকরি পেয়েছে।’


সাধারণত চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৯ ডিজিটের রোল নম্বর হয়। এদিকে,উদ্ধার হওয়া কাগজে ৯টি নম্বরই লেখা রয়েছে। উদ্ধার হয়েছে একটি ছবির স্ক্রিপ্ট। যে ছবিতে হৈমন্তীর চরিত্রের নাম পারমিতা। এই স্তূপে পড়ে রয়েছে কম্বল থেকে শুরু করে একাধিক বাক্স, বস্তা, আরও অনেক কিছু। এমনকী পড়ে রয়েছে বিয়ের কার্ড, ফাইল, যেখানে অধিকাংশ কাগজেই নাম লেখা রয়েছে হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের। পড়ে থাকা একাধিক ফাইলের থেকেই পাওয়া গিয়েছে কিছু শেয়ারের কাগজও। যেখানে সই রয়েছে হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের। সেই কাগজে ঠিকানা হিসাবে উল্লেখ রয়েছে, কাঠুরিয়াপাড়া উত্তর বাকসাড়া। অর্থাৎ হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈত্রিক ঠিকানা। এছাড়াও ২০১৩ সালের একটি শেয়ার অ্যাপ্লিকেশন ফর্মও পাওয়া গিয়েছে, যেখানে বোর্ড অব ডিরেক্টরকে লেখা। বাবার নাম হিসাবে রয়েছে সাধন গোপাল গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম।


সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়োগ দুর্নীতির বিপুল টাকা গোপাল দলপতির কাছে আসতে শুরু করে। আর তখন থেকেই দুজনের শুরু হয় সম্পত্তি কেনার পালা। ২০১৫ সালে গোপাল শুধুমাত্র নতুন সংস্থা খোলার জন্য ও নিত্যজনতুন সম্পত্তি কিনতেই নিজের নাম পরিবর্তন করেন। এখনও পর্যন্ত ইডি ও সিবিআইয়ের কাছে আসা খবর অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন জেলায় নামে ও বেনামে প্রায় ২০০ বিঘা জমি ও কোথাও জমির উপর বাড়িও রয়েছে। বীরভূমে গোপাল-হৈমন্তীর হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। হাওড়ায় বাপের বাড়ি ছাড়াও টালিগঞ্জের অদূরে বেহালার মুচিপাড়ার কাছে রাজা রামমোহন রায় রোডে একটি ফ্ল্যাটের হদিশ মিলেছে।

About Post Author