Home » হৈমন্তী প্রসঙ্গে চাঞ্চল্যকর দাবি বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর

হৈমন্তী প্রসঙ্গে চাঞ্চল্যকর দাবি বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর

সময় কলকাতা ডেস্ক,১ মার্চঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইতিমধেয়ি নাম জড়িয়েছে ‘রহস্যময়ী’ হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের। তাঁকে নিয়ে নানা তথ্য সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে হৈমন্তীকে নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। হৈমন্তী গাঙ্গোপাধ্যায় মালদার চাঁচলে কোনও গোপন ডেরায় লুকিয়ে ছিলেন। এমনই বিস্ফোরক দাবি উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের আশ্রয় ছিলেন হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়। বর্তমানে তিনি চাঁচল থেকে নেপাল বা বিহার ,ঝাড়খন্ডে চলে যেতে পারেন। এ বিষয়ে বিজেপির সংসদ খগেন মুর্মু বলেন, হৈমন্তী চাঁচলে আত্মগোপন করেছিলেন। এখানে হৈমন্তীকে আশ্রয় দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের একটা অংশ। যদিও বিজেপির সংসদের এই অভিযোগকে মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন চাঁচল ১ নং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা।


অন্যদিকে, হৈমন্তীর খোঁজে লুক আউট নোটিশ জারি করেছে সিবিআই। সিবিআই অফিসাররা মনে করছেন, দেশ ছাড়তে পারেন হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়। কার্যত সেকারণেই তাঁর ছবি–সহ প্রামাণ্য নথি বিভিন্ন বিমানবন্দরে পাঠিয়ে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়েছে। যার অর্থ, কোনও বিমানবন্দরে তাঁকে দেখামাত্রই আটক করা হবে। সিবিআই সূত্রে খবর, সোশ্যাল মিডিয়ায় খোঁজাখুজি করে হৈমন্তীর বিষয়ে বড় কোনও তথ্য মেলেনি। তাঁদের ধারণা, প্রাক্তন স্বামী গোপাল দলপতির সঙ্গে হৈমন্তী গোপনে যোগাযোগ রাখছেন। হৈমন্তীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তাঁকে যাতে কেউ মেসেঞ্জারে কিছু লিখে পাঠাতে না পারে তার ব্যবস্থা করেছে হৈমন্তী। ফলে সিবিআই অফিসাররা নাগাল করতে পারছে না। ইতিমধ্যেই হৈমন্তী হোয়াটসঅ্যাপের ডিপি পরিবর্তন করেছেন। তাতে আরও সন্দেহ বাড়ছে। যদিও গোপাল দলপতি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘হৈমন্তী খুব শীঘ্রই সামনে আসবে। আর সব প্রশ্নের জবাব দেবে।’


প্রসঙ্গত,গোপাল ও হৈমন্তীর নাম উঠে আসার পর থেকেই তাঁদের সংস্থা ও কার্যকলাপ সম্পর্কে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সেইসঙ্গে হৈমন্তী কোথায় রয়েছে, তাও তাঁরা জানার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমকে গোপাল দলপতি ফের জানিয়েছেন যে, নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় মাথা রয়েছে। হৈমন্তীর কাছ থেকে এক টাকাও পাওয়া যাবে না বলে দাবি তাঁর। কীভাবে তাঁর বাড়ির আবর্জনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথির হদিশ মিলল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি যোগে গোপাল দলপতি ওরফে আরমান গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের তদন্ত করতে গিয়েই বেশ কয়েকটি সংস্থার সন্ধান মেলে। অভিযোগ, হৈমন্তীর সংস্থাগুলির মাধ্যমেই টাকা পাচার করতেন গোপাল।

About Post Author