Home » বিধানসভার সদস্যপদ হারাতে চলেছেন উদ্ধবের অনুগামী বিধায়কেরা

বিধানসভার সদস্যপদ হারাতে চলেছেন উদ্ধবের অনুগামী বিধায়কেরা

সময় কলকাতা ডেস্ক,১ মার্চঃ গতমাসেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বাবা বালাসাহেব ঠাকরের তৈরি দল এবং পার্টির প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে। এবার সুপ্রিম কোর্ট উদ্ধব ঠাকরের অনুগামী বিধায়কদের সদস্যপদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের জানান, উদ্ধবের সঙ্গে থাকা বিধায়কেরা দলত্যাগ বিরোধী আইন লঙ্ঘন করেছেন। তাঁরা আর বিধায়ক থাকতে পারবেন না।


ফেব্রুয়ারি মাসেই দলের নাম ও প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন উদ্ধব ঠাকরে। শীর্ষ আদালত কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে দল তৈরি করা ছাড়া উপায় নেই তাঁর সামনে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে তাঁর সঙ্গে থাকা বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, ওই বিধায়কেরা দলের হুইপ অমান্য করেছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুসারে যা বেআইনি। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, আগের মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। পরিবর্তে একই দলের আর একজন মুখ্যমন্ত্রী হন। তাহলে সেই দলের বিধায়কেরা হুইপ অমান্য করে নতুন সরকারের পক্ষে ভোট দিলেন না কেন? শীর্ষ আদালতের প্রশ্ন, সরকারের মাথায় যিনিই বসুন না কেন, বিধানসভায় বিধায়কদের দলীয় পরিচিতি তাতে বদলে যায় না। শিবসেনার বিধায়কেরা নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে মানতে বাধ্য। কারণ পরিষদীয় দল একনাথ শিন্ডেকে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করেছিল। তিনি শিবসেনার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন।


উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে মহারাষ্ট্রের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন তাঁরই সহকর্মী একনাথ শিণ্ডে। এরপরই একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ জন বিধায়ক শিবসেনা ছেড়ে বেরিয়ে যান। এহেন পরিস্থিতিতে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হন একনাথ শিন্ডে। তারপরেই নিজেদের আসল ‘শিব সেনা’ বলে দাবি করে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি চান শিণ্ডে। এবিষয়ে কমিশনকে উদ্ধব ঠাকরে জানিয়েছিলেন, ‘শিণ্ডে নিজে দলত্যাগ করেছেন, তিনি কখনই দলকে নিজের বলে দাবি করতে পারেন না।’ এরপর গত অক্টোবরে দলের প্রতীক ‘তির-ধনুক’ ‘ফ্রিজ’ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। জানিয়ে দেয়, আসন্ন নির্বাচনগুলিতে উদ্ধব ঠাকরে বা একনাথ শিণ্ডে, কোনও শিবিরই দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। অবশেষে কাটল জট। দলের নাম-প্রতীক দুই ব্যবহারের অনুমতি পেল শিণ্ডে শিবির।

About Post Author