Home » সহিষ্ণুতার পাঠ দেওয়া পশ্চিমি দেশে ক্রমেই বাড়ছে ‘অসহিষ্ণুতা’?

সহিষ্ণুতার পাঠ দেওয়া পশ্চিমি দেশে ক্রমেই বাড়ছে ‘অসহিষ্ণুতা’?

অর্কজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়, সময় কলকাতা ,১ মার্চঃ“আঁধার আঁধারকে দূর করতে পারেনা,তার জন্য আলোর প্রয়োজন। ঘৃণাও ঘৃণাকে হারাতে পারেনা, তার জন্য ভালোবাসার প্রয়োজন।” দীর্ঘ ৫৭ বছর আগে এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন বিখ্যাত অ্যাফ্রো-আমেরিকান মানবধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। প্রেক্ষাপট ছিল অসহিষ্ণুতা। সাম্প্রতিক অতীতে যেই শব্দটি বারবার ঠাঁই করে নিয়েছে খবরের শিরোনামে। শব্দটির আক্ষরিক অর্থ দেশ দেশান্তরে পরিবর্তন হলেও, মূল ভাবনাটি রয়ে গিয়েছে। এই শব্দটিকে একেবারে ছেঁটে ফেলতে সম্প্রতিক সময়ে নাগরিক সমাজকে বহুবার মুখরিত হতে দেখা গিয়েছে। সে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার্সই হোক’ বা ‘সে নো টু রেসিজম’ মুভমেন্ট। কিন্তু আদতেও কি হুঁশ ফিরেছে?


সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাৎকারে প্রথম বোমাটি ফাটিয়েছিলেন প্রাক্তন জার্মান তারকা মেসুট ওজিল। যিনি জন্মসূত্রে তুরস্কের, কিন্তু খেলছেন জার্মানির হয়ে। এরকম উদাহরণ বিশ্বফুটবলে প্রায় দেখা যায়। ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জার্মানদের বিশ্বসেরা হওয়ার দলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ছিলেন ওজিল। মাত্র ৩০ বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেছেন “দেশ যখন জেতে তখন আমি সমর্থকদের কাছে জার্মান, আর দেশ হারলেই আমি তাদের কাছে হয়ে যাই শরণার্থী।” পাশাপশি জার্মান সমর্থকদের বর্ণবিদ্বেষী বলেও অভিযোগ করেছিলেন ওজিল।


নিজেদের সভ্য জাতি বলে দাবি করা পশ্চিমি দুনিয়ায় ক্রমেই কি বাড়ছে অসহিষ্ণুতা? সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা এই দাবিকে জোরালো করছে। বর্ণবিদ্বেষের শিকার হওয়ার তালিকায় নব্যতম সংযোজন রিয়াল মাদ্রিদের অস্ট্রিয়ান সেন্টার হাফ ডেভিড আলাবা। যিনি ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের ভোটে ক্লাব সতীর্থ করিম বেঞ্জেমাকে ভোট না দিয়ে মেসিকে ভোট দিয়ে মাদ্রিদ সমর্থকদের রোষানলে পড়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি আয়োজিত ‘ফিফা দ্য বেস্ট’ পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান। যে অনুষ্ঠানে বছরের সেরা ফুটবলার, সেরা কোচ, সেরা সমর্থকদের বেছে নেয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়মক সংস্থা। তবে এই বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু পদ্ধতি। ফিফার অন্তর্গত দেশগুলির অধিনায়ক ও কোচেরা মতদান করেন। সেই মতামতের বিচারে বেছে নেওয়া হয় বছরের সেরা ফুটবলারদের।


এবার পুরুষদের সেরা ফুটবলারদের লড়াইয়ে ছিলেন সদ্য বিশ্বকাপ জয়ী লিওনেল মেসি,ব্যালন ডি’অর জয়ী করিম বেঞ্জেমা এবং কিলিয়ান এমব্যাপে। যদিও ভোটে দেখা যায় এমব্যাপে ও বেঞ্জেমাকে পিছনে ফেলে সেরার শিরোপা জিতে নেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই খুশি হতে পারেননি রিয়েল মাদ্রিদ সমর্থকেরা। আর যখন দেখা যায় দলের আলাবা বেঞ্জেমাকে ভোট না দিয়ে মেসিকে ভোট দিয়েছেন তখন ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। এরপরই আলাবার উদ্দেশ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন অনেক সমর্থক। আলাবা অবশ্য নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি ট্যুইট করে বলেছেন, অস্ট্রিয়ার জাতীয় দলের পক্ষ থেকে আমি ‘ফিফা দ্য বেস্ট পুরস্কারে ভোট দিয়েছি। দলের সবার বিচারকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমি একা ভোট দিইনি। সবাই জানে আমি করিম ও তার পারফরম্যান্সের কতটা কদর করি। এ ব্যাপারে আমার কোনও সন্দেহ নেই করিমই বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার।’ তবে সারা বিশ্বকে সহিষ্ণুতার পাঠ দেওয়া পশ্চিমি দুনিয়ায় এধরণের ঘটনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।


প্রসঙ্গত, এবারের ‘ফিফা দ্য বেস্ট’ পুরুষ ফুটবলারের সম্মান পেয়েছেন মেসি। দ্বিতীয় স্থানে বেঞ্জেমা। তৃতীয় স্থানে কাতার বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপে। মহিলাদের মধ্যে সেরা অয়ালেক্সিয়া পুতেলাস। সেরা পুরুষ গোলকিপারের পুরস্কার পেয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। সেরা পুরুষ কোচের শিরোপা উঠেছে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির হাতে। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সেরা সমর্থকের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

About Post Author