সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ মার্চ: ত্রিশঙ্কু মেঘালয় বিধানসভায় সরকার গঠনের সবচেয়ে বড় দাবিদার ছিলেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা এপিপি প্রধান কনরাড সাংমা। শুক্রবারই তিনি মেঘালয়ের রাজ্যপাল ফাগু চৌহানের কাছে ৩২ বিধায়কের সমর্থন-সহ সরকার গঠনের দাবি জানান। কিন্তু এরপরই খেলা ঘুরিয়ে দিলেন তৃণমূলের মুকুল সাংমা। ফলে মেঘের রাজ্যে এখন গভীর অনিশ্চিত হয়ে পড়ল নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া।
শুক্রবার সকাল থেকে ক্ষণে ক্ষণে পাল্টে যাচ্ছে মেঘালয়ের পরিস্থিতি। এদিন সকালে নিজের দলের ২৬ জন, বিজেপির ২ জন, ও ২ জন নির্দল এবং ২ জন এইচএসপিডিপি বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আর্জি জানিয়ে আসেন এনপিপি নেতা কনরাড সাংমা। কিন্তু এরপরই মেঘালয়ের হিল স্টেট পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এইচএসপিডিপি দাবি করে কনরাড সাংমাকে তাঁদের দল কোনও সমর্থন দেয়নি। এমনকি তাঁদের দলের দুই বিধায়ককে এই জাতীয় কোনও অমুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে সরকার গঠন করতে গিয়ে ‘হোঁচট’ খেল এনপিপি-বিজেপি জোট।

প্রসঙ্গত, মেঘালয়ের মোট বিধানসভা আসন ৬০টি। ফলে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ৩১। এবার ভোট হয়েছে ৫৯টি আসনে, কারণ একটি আসনে ভোট হয়নি এখনও। ফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে মেঘালয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি বা এনপিপি পেয়েছে ২৬টি আসন। তাঁদের জোটসঙ্গী বিজেপি পেয়েছে ২টি আসন। দুটি আসন পেয়েছেন নির্দল প্রার্থীরা এবং হিল স্টেট পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি পেয়েছে ২টি আসন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা দাবি করেন, দুজন নির্দল এবং দুজন এইচএসপিডিপি বিধায়ক তাঁদের সমর্থন করেছেন। ফলে তাঁদের বিধায়ক সংখ্যা ৩২ জন। কিন্তু খেলা ঘুরিয়ে দিলেন মেঘালয়ের তৃণমূল বিধায়ক মুকুল সাংমা। শুক্রবার সকালেই তিনি মেঘালয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ইউডিপি-র নেতা লাকমেন রিম্বুইয়ের বাড়িতে বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে ছিলেন কংগ্রেস, ভিপিপি, পিডিএফ এবং এইচএসপিডিপি নেতারা। এই দলগুলির মোট বিধায়ক সংখ্যা ২৯। এরমধ্যে ইউডিপি-র ১১ জন বিধায়ক, কংগ্রেসের রয়েছে ৫ বিছায়ক, তৃণমূল জিতেছে ৫ আসনে, ভিপিপির ঝুলিতে রয়েছে ৪টি আসন এবং পিডিএফ জিতেছে ২টি আসনে। অপরদিকে এইচএসপিডিপি-র দুজন বিধায়কও তাঁদের দিকে রয়েছে বলে দাবি করে বিরোধী জোট। বৈঠক শেষে হিল স্টেট পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি কেপি পাংনিয়াং এবং সচিব প্যানবোরলাং রিনতাথিয়াং দাবি করেন, দলীয় বিধায়কদের এনপিপি-বিজেপি সরকারকে সমর্থনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে এনপিপি-বিজেপি জোট ম্যাজিক ফিগার জোগাড় করতে পারল না।

শুক্রবার তৃণমূল নেতা মুকুল সাংমা দাবি করেছেন, এবার মেঘালয়ের মানুষ কোনও সংখ্যাগরিষ্ঠ মত পোষণ করেননি। এটা পরিবর্তনের জনাদেশ। বাকি রাজনৈতিক দলগুলিতে বুঝতে হবে যে এই জনাদেশের ফলে দায়িত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে (আমাদের) একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এনপিপি-বিজেপি বিরোধী জোট এককাট্টা হলে মেঘালয়ে সরকার গঠন ঝুলে যাবে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি বা এনপিপি-র দুই বা তিন বিধায়ক যদি শিবির বদলায় তবেই বিরোধী জোট সরকার গঠন করতে পারে। এখন জল কোন দিকে গড়ায় সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
জয়শ্রীরাম বললেই রোগীর পাঁচশো টাকা ছাড়- বিতর্ক চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক