Home » নারী দিবসের দশভুজা

নারী দিবসের দশভুজা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ মার্চ: যিনি রাধেন তিনি আবার চুলও বাঁধেন – এই কথাটুকুর মধ্যে মহিলাদের বেঁধে রাখা আজ ক্লিশে হয়ে উঠেছে। মেয়েরা বাস্তব অর্থেই এখন হয়ে উঠেছেন দশভুজা। তারা যেরকম সংসারের হাল ধরছেন, তেমনি সংসারের হাল ধরার জন্য কোনও গাড়ির স্টিয়ারিংও ধরেছেন। পুরুষেদের মতোই গাড়িতে বসা যাত্রীদের নিশ্চিত ও নিরাপদ লক্ষ্যে পৌঁছে দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এমনই  এক মহিলার জীবনযাপনের কথা ও ছবি তুলে ধরার মাধ্যমে বিশ্বের আপামর নারীজাতির প্রতি সময় কলকাতার শ্রদ্ধার্ঘ্য।

একজন নারী প্রকৃত অর্থেই দশভূজা। সেই পৌরাণিক যুগ থেকেই শুরু হয়েছিল মানব জাতির অগ্রগতি। মানবজাতির রক্ষাকবচ হয়ে দেখা দিয়েছিল নারী। দুর্গা যেমন ছিলেন দুর্গতিনাশিনী তেমনই এক দুর্গতিনাশিনীর কথা আমরা তুলে ধরছি আজকের কোলাজে। ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে স্থির হয়েছিল ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে।  ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এই ইতিহাস জীবনযুদ্ধে সংগ্রামী মেয়েটিকে প্রভাব ফেলে না। তাঁর জীবন প্রতিটি দিনকেই আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে মর্যাদা দেয়।

আমরা তুলে ধরেছি এমনই এক অসামান্য নারী – বারাসাতের কাজল লোহার, তিনি টোটো চালিয়ে কেবলমাত্র জীবিকা নির্বাহ করেন তাই নয়, নারীদের শাশ্বত শক্তির প্রকাশ হয়ে উঠেছেন। রোজই তাঁকে বারাসতের অলিগলি অথবা ব্যারাকপুর-বারাসত রোডে টোটোতে যাত্রী নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। পথচলতি মানুষের চোখে পড়ে বিষয়টি। কারণ সাধারণ মানুষের অভ্যস্ত চোখ কেবলমাত্র পুরুষদেরই টোটো বা অটোর স্টিয়ারিং হাতে নিতে দেখেন। এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম কাজল লোহার। যাত্রীরাও নিশ্চিন্তে উঠে পড়েন তাঁর টোটোতে। সংসার চালাতে তাঁর এই লড়াই সত্যিই কুর্নিশ জানানোর মতো।

লড়াই কাজল লোহারের রোজনামচার অঙ্গ। নারীদিবসও তার ব্যতিক্রম নয়। বুধবারও তাঁকে দেখা গেল টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন বারাসতের রাস্তায়। তবুও প্রাপ্য মর্যাদার অভাব কোথাও যেন অব্যক্তভাবে প্রকাশ পেতে থাকে তাঁর চোখে-মুখে। আর তাই হয়তো অভিমানী শোনায় তাঁকে। “পুরুষের দেহে এক বাড়তি প্রত্যঙ্গ, দিয়েছে শাশ্বত শক্তি, পৃথিবীর মালিকানা তাকে / ফ্রয়েডবাবুর মতে ওটি নেই বলে নারী হীনমন্য থাকে / পায়ের তলায় থেকে ঈর্ষা করে পৌরুষের প্রতি ” ফ্রয়েডকে উদ্ধৃত করে সাহসী নারীচেতনা  চাবুকের মত কণ্ঠস্বর হয়ে ঝরে পড়েছে মল্লিকা সেনগুপ্তের মত কবির লেখায় তা যেন না বলা বাণীর মত প্রকাশ পেতে থাকে —–নারীশক্তির আধার বারাসাতের জীবন সংগ্রামের মধ্যে।

About Post Author