Home » অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!

অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!

Oplus_131072

চুমকী সূত্রধর, সময় কলকাতা, ৩১ মে :

অভিষেককে ঘিরে রণক্ষেত্র সোনারপুর

শনিবার বঙ্গ রাজনীতির একটি নজির বিহীন অধ্যায়ের সাক্ষী হল সোনারপুর সহ বঙ্গ। আক্রান্ত হলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কী হয়েছিল আর এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় বা কী?

নির্যাস

এদিন অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো। চলে কিল, ঘুষি। উত্যক্ত জনতার রোষ পেরিয়ে নিহতের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ আটকে ছিলেন অভিষেক । শেষমেশ দেড় ঘণ্টা পর ‘বন্দি’ অভিষেককে বের করে আনে কেন্দ্রীয় বাহিনী।শনিবার ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের দেখতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চারচাকার গাড়ি নয়, দু’চাকার বাইকে করে সোনারপুরে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢোকার মুখে তাঁর গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় অভিষেকের মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে।

চারচাকা ছেড়ে বাইক, তারপরেই চরম বিশৃঙ্খলা

রাস্তায় তীব্র বিক্ষোভের জেরে এক সময় নিজের চারচাকা গাড়ি ছেড়ে একটি মোটরবাইকে চড়ে বসেন অভিষেক। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা তাঁর গতিপথ আটকে গাড়ি ধাওয়া করতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সরাসরি শারীরিক হেনস্থা করা হয় তৃণমূল নেতাকে। এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের মাথা বাঁচাতে তড়িঘড়ি একটি ক্রিকেট হেলমেট পরে নেন তিনি। তবে তাতে কাজ হয়নি। ভিড়ের মধ্য থেকেই অভিষেককে লক্ষ্য করে দেদার জুতো এবং ডিম ছোড়া হতে থাকে। ছিঁড়ে দেওয়া হয় তাঁর পরনের সাদা শার্টের বোতাম, ভেঙে ফেলা হয় চোখের চশমাও। চারপাশ থেকে ধেয়ে আসে ‘চোর-চোর’ স্লোগান।

 প্রাণে বেঁচে আক্রান্তের বাড়িতে পৌঁছন অভিষেক

বাড়ির বাইরে উন্মত্ত জনতা তখনও অপেক্ষায় ছিল, কখন অভিষেক বাইরে বেরোবেন। ফলে আবারও তাঁর উপর হামলার আশঙ্কা ছিল। সেই আশঙ্কা থেকেই সোনারপুরের আইসি-কে ফোন করেন অভিষেকের অসহায় নিরাপত্তারক্ষী। শনিবার সোনারপুরে অভিষেকের ওপর হওয়া নজিরবিহীন শারীরিক হেনস্থার ঘটনার পর এবার গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের ভাঙা চশমা সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে দাবি করেন, মেরে ফেলতে চেয়েছিল তাঁকে। একই সঙ্গে এই ঘটনা রুখতে ব্যর্থতার দায়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জমানার পুলিশ-প্রশাসনকেও তীব্র নিশানা করেছেন তিনি।

 

“স্থানীয়রা নন, দায়ী বিজেপির ‘বহিরাগতরা’ “

হামলার ঘটনার পর সোনারপুরের সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণ ক্লিনচিট দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর দাবি, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের দূর-দূরান্তের কোনও যোগ নেই। অভিষেকের বক্তব্য, সোনারপুরের আমজনতা তাঁকে কোনও রকম বাধা দেননি, বরং তাঁরা আন্তরিকভাবেই স্বাগত জানিয়েছিলেন। স্থানীয়দের কেউ এই হামলায় জড়িত নন। অভিষেকের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে আগে থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই নির্দিষ্ট এলাকায় নিজেদের লোক ঢুকিয়ে রেখেছিল বিজেপি। সম্পূর্ণ পরিকল্পনা মাফিক বহিরাগতদের এনেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

কী বলছেন বিজেপি বঙ্গ সভাপতি

এবার তথাগত স্টাইল ছেড়ে তৃণমূল জমানার হিংসার ‘উদাহরণ’ টেনেছেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি  শমীক ভট্টাচার্য । হাইভোল্টেজ কাণ্ড নিয়ে এবার মুখ খুলেছে পদ্মশিবির। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূল জমানার হিংসার ‘উদাহরণ’ টেনে তিনি অতীত মনে করিয়ে দিয়েছেন। শমীক বলছেন, এখন যদি তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসত, তাহলে বিজেপির ৫০০-৬০০ কর্মী খুন হয়ে যেত।

অভিষেককেই বিঁধেছে বামেরা,বিজেপির পাশে বামেরা!

এই ঘটনায় সিপিএমের অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং অভিনব। ক্ষমতায় থাকা বিজেপিকে নয়, ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলকে এই আক্রমণ সেলিমের সোনারপুরের ঘটনা নিয়ে তৃণমূল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমানে সমানে বিঁধেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর কথায় উঠে এসেছে অভিষেকের পুরনো হুঙ্কারের প্রসঙ্গ।

কী বলছেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতারা :

একদিকে বিজেপির ‘জনরোষ’-এর তত্ত্ব আর অন্যদিকে সিপিএমের ‘গণতন্ত্রের শিক্ষা’, সোনারপুরের এই ধুন্ধুমার কাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে ছাব্বিশের ভোটের পর ফের একবার বঙ্গ রাজনীতিতে যুদ্ধং দেহি পরিস্থিতি তৈরি হল।

সোনারপুরে অভিষেক আক্রান্ত, সরব মমতা

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে খুনি আখ্যা দিলেন। এক্স হ্যান্ডেলে মমতা লিখলেন, শাসকই খুনি হয়ে উঠেছে।

 জাতীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া

অভিষেককে নিগ্রহের ঘটনায় ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার নিন্দা করেছেন মল্লিকার্জুন খর্গে ও অখিলেশ যাদব।।

About Post Author