সময় কলকাতা ডেস্ক,৯ মার্চ: মাত্র ৬ দিনে ছ’কোটি টাকার সম্পত্তি কিনেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তাও আবার নগদ টাকায়। ইতিমধ্যেই এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে ইডির। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কোথা থেকে এল বিপুল নগদ? সামান্য রাজনৈতিক কর্মী হয়ে কীভাবে এত টাকার সম্পত্তির মালিক হলেন তিনি? এ প্রশ্নগুলির উত্তর পেতেই বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইডি। যদিও, কেষ্ট এখনও পর্যন্ত এসব প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। বীরভূমের জেলা সভাপতি দাবি, অনেক দিনের পুরনো ঘটনা। তাই তিনি কিছু মনে করতে পারছেন না।

ইডি সূত্রে খবর, ২০১৪ সালে ১০-১৭ নভেম্বর মধ্যে প্রচুর জমি কেনেন অনুব্রত মণ্ডল। ৬ কোটি নগদ টাকায় কেনা হয়েছিল সমস্ত জমি। জমির মালিকানা ছিল অনুব্রতকন্যা সুকন্যা মণ্ডলের নামে। তবে অনুব্রতর নামেও প্রচুর সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে ইডি। জানা গিয়েছে,সায়গল-এনামুল-সুকন্যার বয়ানের ভিত্তিতেই প্রশ্নপত্র সাজিয়েছেন প্রশ্নকর্তারা। তাতেই ইঙ্গিত পেয়েছিল ইডি। জারি জিজ্ঞাসাবাদ। সায়গল এবং অনুব্রতকে মুখোমুখি জেরা করতে পারেন ইডির আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার ফের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় অনুব্রত মণ্ডলকে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল দিল্লি পৌঁছতেই ইডি-র বিচারক রাকেশ কুমারের বাড়িতেই চলে শুনানি পর্ব। টানটান উত্তেজনা ছিল মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাত দেড়টা নাগাদ প্রথমে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়েছিল অনুব্রত মণ্ডলকে। তারপর সশরীরে দিল্লির বিচারকের বাড়িতেই হাজিরা দিতে হয় বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে। মধ্যরাত পর্যন্ত চলে শুনানি পর্ব। শুনানি শেষে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিচারক রাকেশ কুমার রায় দেন আগামী ১০ মার্চ অবধি ইডি-র হেফাজতেই থাকবেন কেষ্ট। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বিশেষ সিবিআই আদালতে গরু পাচার মামলায় শুনানি শুরু হয়। অনুব্রতকে ১৪ দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনজীবী। তাতে আপত্তি জানান অনুব্রতের আইনজীবী মুদিত জৈন। শেষপর্যন্ত তাঁকে আগামী ১০ মার্চ ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট জানিয়েছে, অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে রোজ দেখা করতে পারবেন তাঁর আইনজীবী। অনুব্রতর আইনজীবী এদিন আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেলের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে। সেই বিষয়টির ওপর যেন নজর দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, দিল্লি যাত্রা এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। গত শনিবার সেই আর্জি খারিজ করে দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার সকাল ৭টা নাগাদ গরুপাচার কাণ্ডে ধৃত অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে কলকাতায় রওনা দেয় আসানসোল জেল কর্তৃপক্ষ। এদিন অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের এক জন ইনস্পেক্টর, তিন জন সাব ইনস্পেক্টর এবং ১২ জন সশস্ত্র পুলিশের একটি বিশেষ বাহিনী। কনভয়ের সঙ্গে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে ছিলেন আসানসোল জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক অমিয়সিন্ধু দাস এবং একজনের স্বাস্থ্যকর্মী। কলকাতা পৌঁছলে জোকা ইএসআই হাসপাতালে তাঁকে ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। এরপরই দিল্লিতে নিয়ে আসেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী গোয়েন্দা সংস্থা।


More Stories
বাড়ি রং করাও ধ*র্ষণ! ঋতব্রতকে নিয়ে ধর্ষ*কের নতুন সংজ্ঞা মদনের
পারিবারিক ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে খু*ন করে আত্ম*ঘাতী স্বামী
অহংকার মমতার পতনের কারণ বললেন জগন্নাথ দয়িতাপতি