সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৫ এপ্রিল: বালুরঘাটে আদিবাসী তিন মহিলাকে দণ্ডি কাটিয়ে তৃণমূলে ফেরানোর ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম বিশ্বনাথ দাস ও আনন্দ রায়। তাঁদের বিরুদ্ধে ৫০৫ধারা ও এসসি এসটি এক্ট এ মামলাও রুজু করেছে পুলিশ। এই ঘটনার জেরে এবার ‘মূল অভিযুক্ত’-কে গ্রেফতারির দাবিতে সোমবার অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল ১২ ঘণ্টা বাংলা বনধের ডাক দিল আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযান। সুত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাত্রে তপন থানার পুলিশ গোপন সুত্রে ওই দুই জনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের মধ্যে একজন বালুরঘাট পুরসভার অস্থায়ী কর্মী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। ধৃতদের শুক্রবার আদালতে হাজির করায় পুলিশ। বিচারক তাঁদের আগামী ১৭ই মে পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ অবশ্য ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার কোন আবেদন এই দিন করেনি বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী।

এই গ্রেফতারী নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিজেপির নেতা বাপি সরকারের অভিযোগ, ঘটনার এত পর সক্রিয় হয়ে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করে প্রধান অভিযুক্তকে আড়াল করছে। তৃণমূলের জেলা নেত্রীকে কেন এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হল না? এদিন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা সুভাষ চাকি জানান, আইন আইনের পথে চলবে। দল এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না বলেই জানান তিনি।

উল্লেখ্য,বালুরঘাট মোড় থেকে কাঁঠালপাড়া। প্রায় এক কিলোমিটারের কিছু বেশি রাস্তা। সেই রাস্তায় দণ্ডি কেটে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগদানকারীরা তৃণমূলে ফিরলেন। বিজেপিতে যোগদান করার শাস্তিস্বরূপ সারা শহর দণ্ডিকাটতে হয় ৩ আদিবাসী মহিলাকে। বালুরঘাট বিজেপি অফিসের সামনে থেকে তৃণমূল জেলা কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা দণ্ডি কেটে যোগদান করার ছাড়পত্র পান তিন-চারজন আদিবাসী মহিলা। গত সপ্তাহের শুক্রবার ভর সন্ধ্যায় রাস্তাতে এই ধরনের ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত বালুরঘাটবাসী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডুর উপস্থিতিতে বিজেপির জেলা মহিলা মোর্চার উপস্থিতিতে গোফানগর অঞ্চলের প্রায় ২০০ জন মহিলা এবং তাঁদের পরিবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপিতে যোগদানকারী চার আদিবাসী মহিলাকে বালুরঘাট নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দক্ষিণ দিনাজপুরের তৃণমূল মহিলা মোর্চার জেলা সভাপতি প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ‘ঘর ওয়াপসি’ হয় তাঁদের। তবে অভিযোগ, বালুরঘাট কোর্ট মোড় থেকে পার্টি অফিস পর্যন্ত দণ্ডি কাটিয়ে আবার তৃণমূলে যোগ দেওয়ানো হয় তাঁদের। মুহূর্তের মধ্যে চার আদিবাসী মহিলার দণ্ডি কাটার সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।
আরও পড়ুন ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা মুম্বাই-পুনে হাইওয়েতে! মৃত ১২

শুক্রবার রাতে সেই দণ্ডি কাটার ভিডিও টুইট করে সমালোচনার ঝড় তোলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার তথা বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূলের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের অপমান করার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে গর্জে ওঠার ডাক দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। এই পরিস্থিতিতে, শনিবার বিজেপি থেকে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনকারী মহিলাদের বাড়ি পৌঁছন তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডু। কথা বলেন স্থানীয়দের সঙ্গে। তবে, খুব তাৎপর্যপূর্ণভাবে, শুক্রবার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিজেপি থেকে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনকারী মহিলা বাড়িতে নেই। বিজেপির অভিযোগ, তাদের ধমকানো হয়েছে। যদিও বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। পরবর্তীতে, তপনের বিজেপির বিধায়ক বুধরাই টুডুর নেতৃত্বে বালুরঘাট জেলা পুলিশ কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি শাসকদলের নেতৃত্ব।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?