Home » বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে প্রাথমিকের ২টি মামলার নথি তলব

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে প্রাথমিকের ২টি মামলার নথি তলব

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ মেঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই নড়েচড়ে বসল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছ থেকে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত দু’টি মামলার নথি তলব করল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দফতর। ওই মামলা দুটি এবার কোন বিচারপতি শুনবেন, তা মঙ্গলবার ঠিক হতে পারে,এমনটাই সূত্রের খবর। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত কোনও না কোনও মামলা থেকে যে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সরছেন, তা গত ২৮ এপ্রিলের আগেই জানা যায়। তবে সবকটি নাকি কোনও নির্দিষ্ট মামলা থেকে সরছেন বিচারপতি তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় ছিল। সেদিন সন্ধ্যার পরেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনামা সামনে আসার পর জানা যায় প্রাথমিকের দু’টি মামলা থেকে সরছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সেই নির্দেশের তিনদিনের মাথায়, সোমবার রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে সৌমেন নন্দী এবং রমেশ মালিকের মামলার নথি চেয়ে পাঠালেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।


প্রসঙ্গত,গত ২৯ এপ্রিল প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত দু’টি মামলা থেকে সরানো হয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। তবে, আগের মতো বাকি মামলা শুনবেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মুখ খোলেন। এই মন্তব্য নিয়ে পরে আদালতে আলোচনা হয়। তবে সেই সময় বিচারপতি তাঁর মন্তব্যের কোনও ব্যাখ্যা দেননি। তার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানান হয়, এমন মন্তব্য করে থাকলে ওই মামলা শোনার অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন বিচারপতি।

আরও পড়ুন   গরু পাচার মামলায় সুকন্যার গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অনুব্রত মণ্ডল

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের টিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের কাছে সেই সংক্রান্ত নথি চেয়ে পাঠান বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে, সেই নির্দেশের উপর এবার স্বতঃপ্রণোদিতভাবে স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দিয়েছে, তা নিয়ে প্রথমে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। শোনা যাচ্ছিল নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত সব মামলা থেকেই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে পরে জানা যায়, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত দু’টি মামলা থেকে সরানো হয়েছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে। আগের মতো বাকি মামলা শুনবেন তিনি। এরই মধ্যে এদিনই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেলকে নির্দেশ পাঠান, তাঁর যে সাক্ষাৎকারটি নিয়ে এত বিতর্ক, সেই সংক্রান্ত যে প্রতিলিপি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে, তার কপিটি পাঠাতে হবে। এমনকী তার জন্য সময়ও বেঁধে দেন তিনি। জানান, তিনি মাঝরাত পর্যন্ত আদালতে থাকবেন। সেই কপিটি দেখতে চান, যার ভিত্তিতে তাঁকে মামলা থেকে সরানো হয়।

আরও পড়ুন   দলবদলের বাজারে লাল হলুদ ঝড়,চার ভারতীয় ফুটবলারের দিকে নজর ইস্টবেঙ্গলের

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এই নির্দেশের পরই শুক্রবার সন্ধেয় সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির স্পেশ্যাল বেঞ্চ এই সংক্রান্ত আলোচনায় বসে। এরপরই জানিয়ে দেওয়া হয় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় যে নির্দেশ দিয়েছেন, তার উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হল। অর্থাৎ তিনি যে কপি দেখতে চেয়েছেন, সুপ্রিম নির্দেশে আপাতত তা হাতে পাবেন না।এ প্রসঙ্গে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বলেন, তিনি পদত্যাগ করছেন না, তাঁর মনও খারাপ নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতেই হবে। সবশেষে তিনি বলতে চান, ‘সুপ্রিম কোর্ট যুগ যুগ জিও!’ তাঁর মন একটুও খারাপ নয়, একথা উল্লেখ করে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি যতদিন জজ হিসেবে কাজ করব, যে কোনও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হব।’ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এই প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। গত দেড় বছরে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলা মানেই ছিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একের পর এক নির্দেশ দেওয়া। সেই বিচারপতি যখন সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা খেলেন তখনও তিনি জানিয়ে দিলেন, পালিয়ে যাওয়ার লোক নন। সেইসঙ্গে এও স্পষ্ট করে দিলেন, তিনি দ্রুততার সঙ্গে সবটা করতে চাইছিলেন। এরপর অন্য বিচারপতি যদি এসে ষাট বছর লাগান তাতে তাঁর বা সুপ্রিম কোর্টের কিছু বলার থাকবে না।

About Post Author