স্পোর্টস ডেস্ক,সময় কলকাতা,১২ মেঃ ” ফর্মে থাকা ব্যাটারকে আউট করতে পার্টটাইম বোলার কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে,তাই আমি প্রথম ওভারে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিই যদিও আমি নিজেকে পার্টটাইম বোলার মনে করি না । এখন কে কি সমালোচনা করবে -তা নিয়ে আমি পরোয়া করি না। ” – ম্যাচ শেষে এমনটাই জানালেন কেকেআর অধিনায়ক নীতিশ রানা। কেন তিনি এমন কথা বললেন? বললেন কারণ রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়কের সিদ্ধান্ত ভয়ঙ্কর ভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে বাধ্য এবং পড়ছেও।দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের চেয়েও কেকেআরের বড় বিপর্যয় টেনে আনে নীতিশ রানার একটি সিদ্ধান্ত। টসে হেরে মাত্র ১৪৯ রানের পুঁজি নিয়ে রাজস্থানের তরুণ উদীয়মান ওপেনার যশস্বী জয়সোয়ালের বিরুদ্ধে প্রথম ওভারেই কেকেআর অধিনায়ক নীতিশ রানা নিজেই বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেকেই এদিন বিস্মিত হন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন , এই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে যায় যশস্বী প্রথম ওভার থেকেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠায়। ফলে এই সিদ্ধান্ত যেমন বৃহস্পতিবারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রাজস্থানের বিরুদ্ধে কেকেআরের বিশ্রী হারের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে , তেমনই এই সিদ্ধান্তর ফলে নেট রানরেটে কলকাতা অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে । সবচেয়ে বড় কথা এই ম্যাচে হারের ফলে পয়েন্ট টেবিলে ৭ নম্বরে নেমে গেল কলকাতা এবং এবার আইপিএলে শেষ চারে পৌছানোর আশা কেকেআরের কার্যত আর নেই বললেই চলে। রবিবার চেন্নাইয়ের কাছে হারলেই অঙ্কের হিসেবে, খাতায় কলমে নিশ্চিত হয়ে যাবে কলকাতার বিদায়। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বল বাকি থাকতে হারের রেকর্ডে কলকাতা নিজের নাম খোদাই করে ফেলল বৃহস্পতিবারের ম্যাচে।
আরও পড়ুন অভিষেক-কুন্তল মামলায় স্থগিতাদেশ দিলেন না বিচারপতি অমৃতা সিনহা

এদিন ৪১ বল বাকি থাকতে ম্যাচ হেরে যায় কেকেআর ।১৫০ বা তার বেশি রান তাড়া করতে নেমে সবচেয়ে দ্রুত যে ম্যাচ গুলির নিস্পত্তি হয়েছে সেই তালিকায় এদিনের ম্যাচ থাকছে দু নম্বরে। তবে যশস্বী শুধুই নীতিশ রানার প্রতি নির্দয় ছিলেন এমনটা নয়। কেকেআর-কে হারানোর পেছনে ফ্যাক্টর হয়ে ওঠা যশস্বী বিপক্ষ দলের সব বোলারকেই কম বেশি দূরমুশ করেন । নীতিশ রানার প্রথম ওভারে ২৬ রান করেন তিনি। ৪৭ বল খেলে অপরাজিত ৯৮ রান করেন তিনি। ১৩ বলে অর্ধশতরান করে আইপিএলে সর্বকালের দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড গড়ে ফেললেন যশস্বী। বৃহস্পতিবার জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে উঠে এল রাজস্থান রয়্যালস।

তবে একথাও ঠিক যশস্বীর যশে সবাইকে বৃহস্পতিবার ম্লান লাগলেও এদিনের জয়ের পেছনে যথেষ্ট অবদান রয়েছে যুজুবেন্দ্র চাহাল, ট্রেন্ট বোল্ট এবং সঞ্জু স্যামসনের। সঞ্জু ব্যাট হাতে রান পেলেন কিন্তু তারআগেই রাজস্থানের যুজুবেন্দ্র চাহালের স্পিনের কাছে নতিস্বীকার করে কেকেআর। পঁচিশ রান দিয়ে চার উইকেট পান চাহাল। একথাও উল্লেখ করা দরকার পাওয়ার প্লেতে জেশন রয় এবং গুরবাজকে খুব অল্প রানের মধ্যে প্যাভিলিয়ানে ফেরত পাঠান ট্রেন্ট বোল্ট এবং এখানে ম্যাচে প্রারম্ভিক ধাক্কা খায় কেকেআর । যে পিচে ঝড়ের গতিতে ১৩.১ বলে রাজস্থান ১৫০ রান তুলে নেয় সেখানে ভেঙ্কটেস আয়ার ৪২ বলে ৫৭ রান করলেও অন্যদের ব্যাট থেকে রান-ই আসে নি। ব্যাটিং ব্যর্থতায় কেকেআরের হাত থেকে ম্যাচ বেরিয়ে যেতে থাকে । অতঃপর প্রথম ওভারে বল করতে এসে এবং দলের স্ট্রাইক বোলারদের সঠিক সময়ে ব্যবহার না করে দলের পতনের ষোলো কলা পূর্ণ করেন অধিনায়ক নীতিশ রানা।


More Stories
ইউএস ওপেন : ছিটকে গেলেন আলকারাজ
ঈশান কিষানের পরাক্রমে দলীপ ট্রফি জয়ের দোরগোড়ায় পূর্বাঞ্চল
আবার বারাসাতে খেলতে নামছে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল