Home » ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি যাচ্ছে, রায় পাল্টালেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি যাচ্ছে, রায় পাল্টালেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ মে: শুক্রবার ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু পরে সেই সংখ্যা নিয়ে গরমিল দেখা যায়। সোমবার আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বিষয়টি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মঙ্গলবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নিজের রায় সংশোধন করলেন। জানালেন, ৩৬ হাজার নয়, আপাতত ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হচ্ছে। এদিন ৩৬ হাজার চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, তিনি মুখ খুললেন রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ঝাঁকে ঝাঁকে চাকরি বিক্রি হয়েছে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। আদালত দোষী নয়।

উল্লেখ্য, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে চাকরি বাতিল হয়েছে প্রাথমিকের ৩৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার। তবে সোমবার জানা গেল, চাকরি বাতিলের সংখ্যাটা ৩৬ হাজার নয়, ২৭ হাজারের কিছুটা বেশি। জানা গিয়েছে, টাইপোগ্রাফিক্যাল ভুলের জন্য এমন সংখ্যা বিভ্রাট হয়েছে। তাই সেই রায় সংশোধনের জন্য বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসেই আবেদন জানান মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। ২০১৪ সালে যে টেট হয়েছিল, তার ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রথম ধাপে নিয়োগ করা হয়। সেই সময় ৪২ হাজার ৫০০ জনের প্যানেল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।

আরও পড়ুন   নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে জীবনকৃষ্ণ সাহার ফোন থেকে মিলল তথ্যের ভাণ্ডার

সেই প্যানেলে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই নাকি বেনিয়মে চাকরি পেয়েছেন। এমন অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা হয়। ইতিমধ্যেই এই ৩৬ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছে পর্ষদ। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতির সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ অনুমতি দেয়। জরুরি ভিত্তিতে এই মামলা শোনার আর্জি জানানো হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার আগে ৩৬ হাজার শিক্ষকের বক্তব্য শোনা হয়নি। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ন’বছর আগের টেটের নিয়োগে দুর্নীতি রয়েছে বলে আদালতে মামলা করেছিলেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তবে তিনি বলেছিলেন, এই প্যানেলের ৪২ হাজার ৫০০ জনের নিয়োগ হয়েছিল। কিন্তু সবাই যে বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন তা নয়। কেউ কেউ পরীক্ষা দিয়ে মেধার ভিত্তিতেও চাকরি পেয়েছেন। তিনি আদালতে বলেন, যাঁরা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছিলেন তাঁদের বিষয়ে তদন্ত করা হোক। এই মামলার তদন্তভার সিবিআইকে দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগে এই মামলার শুনানিতেই আধ ঘণ্টার নোটিসে জেল থেকে হাইকোর্টে ডাকিয়ে আনা হয়েছিল মানিক ভট্টাচার্যকে। এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেয়েছেন মানিক ভট্টাচার্য। শীর্ষ আদালত বলেছে, ওএমআর শিট জালিয়াতিতে আসল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন মানিকই। দেখা গেল তাঁর সময়ে হওয়া ২০১৪-র টেটে এদিন এতোজনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।

About Post Author