সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ মেঃ মিড-ডে মিল প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ বিস্তর। তবে নানা অভাব অভিযোগের-আবহেই মিড-ডে মিল প্রকল্পে রাজ্যের জন্য ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করল কেন্দ্র। একথা টুইটে জানালেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি আরও জানান, রাজ্যে মিড-ডে মিলের ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেছে কেন্দ্র। সোমবার একটি টুইট করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান,‘কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের সচিব ও পিএম পোষন প্রকল্পের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক ছিল। সেখানে রাজ্যের মিড ডে মিলের পরিচালনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। রাজ্যের তরফে প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়। তার ভুয়সী প্রশংসা করে কেন্দ্র। এরপরই ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দেক কথা ঘোষণা করা হয় বলে জানান ব্রাত্য বসু। বর্তমান পরিস্থিতিতে যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রসঙ্গত, আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ, সড়ক যোজনার মতো প্রকল্পের কেন্দ্রের বরাদ্দ টাকা দিচ্ছে না মোদি সরকার, এমন অভিযোগ শোনা গেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের বহু নেতা-মন্ত্রীর মুখেই। তারমধ্যেই মিড ডে মিল প্রকল্পে ২০০ কোটির অনুদান খুবই উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সম্প্রতি মিড-ডে মিল প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিল কেন্দ্র। অভিযোগ, মিড-ডে মিলের টাকা নিয়ে নয়ছয় হয়েছে বাংলায়। এরাজ্যে ১৬ কোটি টাকার মিডডে মিলের খরচ বেশি দেখানো হয়েছে! হিসেবটা ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মিড ডে মিল নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের। ২০২২ সালে মাত্র ছ’মাসের মধ্যে মিড ডে মিল নিয়ে অন্তত ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে কেন্দ্রের এই রিপোর্টে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ৭০ শতাংশ কম মিড ডে মিল খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী পুষ্টি প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে একটি প্যানেল তৈরি করা হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে শিক্ষা মন্ত্রকের জয়েন্ট রিভিও প্যানেল একটি রিপোর্ট তৈরি করে। সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। আর তাতেই এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে, গত বছর প্রথম দুই অর্থবর্ষে এরাজ্যের তরফে ১৪০ কোটি ২৫ লক্ষ মিড ডে মিলের রিপোর্ট পেশ করা হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের রিপোর্টে ১২৪ কোটি ২২ লক্ষ মিড ডে মিলের উল্লেখ রয়েছে। তখনই বিষয়টি নজরে আসে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের, এমনটাই সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন ৩৬ হাজারের চাকরি বাতিল নয়, টাইপোগ্রাফিক্যাল ভুলের জন্য এমন সংখ্যা বিভ্রাট

পিটিআই সূত্রে খবর, মিড ডে মিল প্রকল্পে অন্তত ১০০ কোটি টাকা বেশি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ জমা পড়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যবাসীর হকের টাকা চাইতে বারবার আলোচনার দাবি জানিয়েও সুরাহা পায়নি রাজ্য। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রকল্পগুলির টাকা আদায়ের দাবিতে কিছুদিন আগেই ধর্ণায় বসেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী, দিল্লি গিয়ে ধর্ণায় বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই পরিস্থিতিতে মিড ডে মিল প্রকল্পে ২০০ কোটির অনুদান খুবই উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


More Stories
অহংকার মমতার পতনের কারণ বললেন জগন্নাথ দয়িতাপতি
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ