সময় কলকাতা ডেস্ক,২৬ জুনঃ রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে এবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে পালটা চিঠি দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাতে জানতে চাওয়া হয়েছে, রাজ্যের তরফে প্রথম দফায় চাওয়া ২২ কোম্পানি বাহিনী পাঠানো হয়েছে। তা মোতায়েনও হয়েছে জেলায় জেলায়। তাহলে আরও ৪৮৫ কোম্পানি বাহিনী কোথায় মোতায়েন হবে? কীভাবে কাজে লাগানো হবে? বলা হয়েছে, এ নিয়ে নোডাল অফিসার অর্থাৎ বিএসএফের আইজি-র সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে হবে। প্রসঙ্গত, বাহিনী চেয়ে মোট তিনবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। প্রথমবার হাই কোর্টের নির্দেশে প্রতি জেলার জন্য এক কোম্পানি করে ২২ কোম্পানি বাহিনী চাওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো আরও ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়া হয়েছিল।

রবিবার বকেয়া বাহিনী পাঠানোর জন্য কমিশনের আরও একটি চিঠি পৌঁছয় দিল্লিতে।সোমবার সকালেই বাহিনী নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পালটা চিঠি দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। তাতে জানানো হয়েছে, ২২ কোম্পানির পর আরও ৩১৫ কোম্পানি অর্থাৎ মোট ৩৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোটে অনুমোদন করা হয়েছে। সেই বাহিনীকে কীভাবে কাজে লাগানো হল? সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে চিঠিতে। এরপর আরও ৪৮৫ কোম্পানি বাহিনী কী প্রয়োজন, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন ‘নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করুন’, রাজভবনের বৈঠকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে নির্দেশ রাজ্যপালের

ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে এবার পঞ্চায়েত ভোটে ২০১৩ সালের মতো অন্তত ৮২ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাতে হবে। অর্থাৎ ৮২০ কোম্পানির বেশি সেন্ট্রাল ফোর্স নামাতে হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ২০১৩ সালে পাঁচ দফায় পঞ্চায়েত ভোট হয়েছিল। তৎকালীন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডে কেন্দ্রকে চিঠি লিখে বলেছিলেন, পাঁচ দফার জন্য ৮২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে। এই ৮২০ কোম্পানি এক লপ্তে লাগবে না। প্রতি দফায় কত বাহিনী লাগবে তা যোগ করে মোট ৮২০ কোম্পানি ফোর্স চেয়েছিলেন তিনি। প্রথম দফার ভোটের জন্য ১৫০ কোম্পানি সেন্ট্রাল ফোর্স চাওয়া হয়েছিল। তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রথম দফাতেই ২৬০ কোম্পানি ফোর্স পাঠিয়ে দেয়। তার মধ্যে প্রথম দফায় ১৫০ কোম্পানি ফোর্স ব্যবহার করে বাকিদের রিজার্ভে রাখা হয়।

আরও পড়ুন ভাঙড়ে অশান্তির জের, অবশেষে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পেলেন নওশাদ সিদ্দিকী
এরপর পরের চার দফায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এই ২৬০ কোম্পানিকেই ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি দফায় ২৫০ কোম্পানি ফোর্স ব্যবহার করা হয়েছিল। কোনও দফায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সেটাই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা। এবার কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে পঞ্চায়েত ভোটে ৮২০ কোম্পানির বেশি সেন্ট্রাল ফোর্স মোতায়েন করতে হবে। কিন্তু কেন্দ্র পাঠাচ্ছে ৩৩৭ কোম্পানি বাহিনী। তা হলে বাকি বাহিনী কী হবে? রাজ্য নির্বাচন কমিশন মনে করছে, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে বিজেপি আবেদন করতে পারে যে এবারও পঞ্চায়েত ভোট কয়েক দফায় ভেঙে দেওয়া হোক। তার পর ৩৩৭ কোম্পানি সেন্ট্রাল ফোর্স ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে প্রতি দফায় প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা হোক।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি