সময় কলকাতা ডেস্ক,২৬ জুনঃ নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা পাচার, গরু পাচারের পর বুধবার পঞ্চায়েত ভোটেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার সেই নির্দেশই খারিজ হয়ে গেল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। এদিন বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চে পঞ্চায়েতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ খারিজ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েতে তদন্তের জন্য এক বিচারপতির কমিশনও গড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে-কে। এদিন ডিভিশন বেঞ্চের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আদালতের নজরদারিতেই রাজ্য পুলিশকে পঞ্চায়েতের তদন্ত করতে হবে।
আরও পড়ুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার নিয়োগ অবৈধ, হাই কোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

উল্লেখ্য,উলুবেড়িয়া ২ নম্বর ব্লকের দুই সিপিএম প্রার্থীর আবেদনের ভিত্তিতে বিডিওর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা দায়ের করেছিল রাজ্য সরকার। ওইদিন মামলা গ্রহণ করেছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এই মামলার শুনানিতে বুধবার বিচারপতি সিনহা বলেছিলেন, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি রাজ্য সরকারি কর্মচারী। তাই এই তদন্তভার রাজ্যের কোনও সংস্থাকে দেওয়া যাবে না। তারপরেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ ছিল, ৭ জুলাই সিবিআইকে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করতে হবে। ৮ জুলাই পঞ্চায়েত ভোটের নির্ধারিত দিন। তার আগেরদিন সিবিআইকে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন পঞ্চায়েতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের, সিঙ্গেল বেঞ্চকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য

প্রসঙ্গত, নিয়োগ সংক্রান্ত নানান দুর্নীতি, পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশের পর উলুবেড়িয়ার একটি ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। উলুবেড়িয়া-২ ব্লকে কাশ্মীরা বিবি ও ওমজা বিবি নামের দুই সিপিএম প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগ, স্ক্রুটিনিতে তাঁদের ফর্ম বাতিল করে দেওয়া হয়। এই দুই প্রার্থীর অভিযোগ, তাঁরা যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তা বিকৃত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁদের বক্তব্য, বিডিওর কাছে অভিযোগ জানাতে গেলেও তা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দু’জন। সেই মামলাতেই বিচারপতি অমৃতা সিনহা সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ৮ জুলাই পঞ্চায়েত ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ঠিক তার আগের দিন তদন্ত রিপোর্ট চাইল আদালত। যদিও অইদিন বিচারপতি বলেছিলেন, রাজ্য পুলিশকে এই তদন্তভার দেওয়া যাবে না। কারণ যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রাজ্য সরকারি কর্মচারী। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআইকেই এই ভার দিয়েছেন বিচারপতি। আদালতের এই রায় বাংলা কেন দেশের নির্বাচনী ইতিহাসেও সম্ভবত নজিরবিহীন।


More Stories
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
যাদবপুর নিয়ে মুখ খোলায় সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘেরাও
তৃণমূল ও সিপিএম প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রীর শপথবাক্য ও মন্ত্রগুপ্তি