Home » পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ ঠিক করে দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন

পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ ঠিক করে দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন

সময় কলকাতা ডেস্ক,১ জুলাই ঃ কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েনের মাধ্যমে রাজ্যের আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট করানো নিয়ে নানান জলঘোলা চলছেই। কত বাহিনী পাঠানো হবে, তা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সংঘাত এখনও অব্যাহত। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৬৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছেছে। আরও বাহিনী চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে আবেদন জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। তারই মধ্যে জওয়ানদের কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার দীর্ঘক্ষণ ধরে কমিশনার, বিএসএফের আইজি, সিএপিএফ ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে বৈঠক হয়। তাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে বাহিনীর মূল কাজ হবে নাকা চেকিং, এরিয়া ডমিনেশন, জনগণের আস্থা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক এবং সীমানা ও সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা।

আরও পড়ুন    কোচবিহারে অশান্তির জের, নিশীথ প্রামাণিককে জেড প্লাস নিরাপত্তা দিল কেন্দ্র

এদিন বৈঠক শেষে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা জানান, কেন্দ্র কত বাহিনী দিচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে বুথভিত্তিক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হবে। ইতিমধ্যে ৬৫ কোম্পানি বাহিনী এসেছে রাজ্যে। বাকি বাহিনী রবিবারের মধ্যে আসবে বলে খবর। এছাড়া ৬৫ হাজার পুলিশ রয়েছে গোটা রাজ্যে। বাড়তি কয়েক কোম্পানি স্টেট স্পেশ্যালাইজড ফোর্স দেওয়া হচ্ছে। কমিশন সূত্রে খবর, মোট কত বাহিনী আসছে, বাকি ৪৮৫ কোম্পানি নিয়ে কী দাঁড়াচ্ছে। সেসব দেখেই বুথের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত। এদিনের বৈঠকে কমিশনার জানিয়েছেন, ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১,৩০০ অভিযোগ জমা পড়েছিল। যার মধ্যে ১,২০৬টি অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে রাজ্যের মোট ৬৩ হাজার বুথের প্রতিটিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে নীরব ছিলেন রাজীব সিনহা।

উল্লেখ্য,হাইকোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আপাতত ৩৩৭ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করেছে। বাকি ৪৮৫ কোম্পানি বাহিনীর ব্যাপারে এখনও কোনও জবাব দেয়নি। এবার এই পরিস্থিতিতে জেলাওয়াড়ি ৩১৫ কোম্পানি ফোর্স বন্টন করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই ৩১৫ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে কোথায় কত মোতায়েন করা হবে তা কমিশন স্থির করে বাহিনীর কর্তাদের জানিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বিএসএফ-সিআরপিএফের কর্তারা বলেছিলেন, এভাবে মোতায়েনের তালিকা ধরালে চলবে না। যেহেতু কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে, অর্থাৎ বিএসএফ, সিআরপিএফ, আইটিবিপি-র মতো পৃথক ফোর্স রয়েছে, তাই সেই সব ফোর্স ধরে ধরে ডিপ্লয়মেন্ট লিস্ট দিতে হবে। কিন্তু কমিশন জানিয়ে দিয়েছিল, তা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। তা করতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে।

আরও পড়ুন    ‘বাংলায় আর হিংসার ঘটনা বরদাস্ত নয়’, জানালেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস

জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোতায়েন থাকবে সিআরপিএফ। একইভাবে সিআরপিএফ মোতায়েন থাকবে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, হুগলি, বীরভূম ও ঝাড়গ্রামে। দুই ২৪ পরগনায় পঞ্চায়েত ভোট সামলাবে বিএসএফ। একইভাবে সীমান্ত রক্ষা বাহিনী তথা বিএসএফ মোতায়েন থাকবে মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, কোচবিহার, নদিয়া, মালদহ, দুই দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে। এছাড়াও দুই বর্ধমানে মোতায়েন থাকবে এসএসবি। পুরুলিয়ায় ভোট সামলাবে সিআইএসএফ। অর্থাৎ রাজ্যের ২২টি জেলায় কোন ক্যাটেগরির ফোর্স কোথায় যাবে তা নির্বাচন কমিশনের দাবি মতো নির্ধারণ করে দিল অমিত শাহের মন্ত্রক।

About Post Author