Home » মোদি পদবী মামলায় গুজরাট হাইকোর্টেও ধাক্কা খেলেন রাহুল গান্ধি, খারিজ হয়ে গেল রিভিউ পিটিশন

মোদি পদবী মামলায় গুজরাট হাইকোর্টেও ধাক্কা খেলেন রাহুল গান্ধি, খারিজ হয়ে গেল রিভিউ পিটিশন

সময় কলকাতা ডেস্ক,৭ জুলাইঃ মোদি পদবী মামলায় ফের ধাক্কা খেলেন রাহুল গান্ধি। সুরাটের সেশন কোর্টের পরে গুজরাট হাইকোর্টেও রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়ে গেল রাহুল গান্ধির। ২০১৯ সালে কর্নাটকের এক জনসভায় ‘সব মোদি চোর’ মন্তব্য করার জেরে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন রাহুল। খুইয়েছেন সাংসদ পদও। তাঁকে দু’বছরের কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিল সুরাটের সেশন কোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই গুজরাট হাইকোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিলেন রাহুল গান্ধি। তবে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতির সেই আবেদন খারিজ করে দিল গুজরাট হাইকোর্ট। ২০১৯ সালে কর্নাটকের ভোটের প্রচারে গিয়ে রাহুল গান্ধি মন্তব্য করেছিলেন, ‘দেখা যাচ্ছে যাঁরাই দুর্নীতি করছেন তাঁদেরই পদবী মোদি। আইপিএলে লুঠ করেছিলেন ললিত মোদি। নীরব মোদি টাকা লুঠ করে পালিয়ে গিয়েছেন। আর যিনি তাঁকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন তিনিও একজন মোদি। দু’জনেই একই রাজ্যের।’

এরপরেই গুজরাটের বিজেপির এক প্রাক্তন বিধায়ক, বর্তমান সাংসদ সুরাটের আদালতে মামলা করেন। তাঁরও পদবি মোদি। তিনি আদালতে বলেন, মোদি পদবীকে রাহুল গান্ধি অপমান করেছেন। এবছরের মার্চ মাসে সেই মামলারই চূড়ান্ত রায় দান করে সুরাটের আদালত। বিচারক রাহুলকে দু’বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনান। পাল্টা রাহুল বলেন, তিনি এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে যাবেন। যেহেতু তিন বছরের কম কারাদণ্ডের সাজা তাই সুরাতের ওই আদালতই রাহুলের জামিন মঞ্জুর করে। তাঁকে নির্দেশ দেয়, জেলযাত্রার এই সাজা আপাতত ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হল। এই সময়ের মধ্যে রাহুলকে উচ্চতর আদালতে পিটিশন দাখিল করতে হবে। তার পরেই গুজরাট আদালতে সাজা মকুবের পিটিশন দাখিল করেন রাহুল।

উল্লেখ্য,২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে কর্নাটকের কোলারে নির্বাচনী প্রচারে মোদী পদবি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তিনি বলেছিলেন, “সমস্ত চোরদের পদবিই মোদী হয় কেন? তা সে নীরব মোদীই হোক বা ললিত মোদী কিংবা নরেন্দ্র মোদী”। রাহুল গান্ধির এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই সুরাটের বিজেপি নেতা পূর্ণেশ মোদী মানহানির মামলা দায়ের করেন। গত ২৩ মার্চ গুজরাটের সুরাট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই মানহানি মামলায় রাহুল গান্ধিকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ২ বছর কারাদণ্ডের সাজা দেন। সুরাতের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত ৩ এপ্রিল সুরাতেরই দায়রা আদালতে আবেদন করেছিলেন রাহুল। রাহুল বলেছিলেন, তিনি এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে যাবেন। যেহেতু তিন বছরের কম কারাদণ্ডের সাজা তাই সুরাতের ওই আদালতই রাহুলের জামিন মঞ্জুর করে। তবে রাহুলকে দোষী ঘোষণা করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এইচএইচ বর্মার রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয়নি দায়রা আদালত। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়ার জন্য ফের দায়রা আদালতেই আর্জি করেছিলেন রাহুল।

আরও পড়ুন    পঞ্চায়েত ভোটের ফল প্রকাশের পরেও ১০ দিন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রচারের সময় রাহুল গান্ধি মন্তব্য করেছিলেন “সব মোদিরা কেন চোর হয়?” নীরব মোদি, ললিত মোদিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই রাহুল এই মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু সুরাটের দায়রা আদালতে রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে মামহানীর মামলা হয়। মামলা করেছিলেন গুজরাটের বিজেপি নেতা পূর্ণেশ মোদি। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাহুল এই মন্তব্য করে সমস্ত ‘মোদি’ পদবীর মানুষদের অপমান করেছেন। এরপরই রায়দানের সময় সুরাটের আদালতে উপস্থিতও ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ। সাজা ঘোষণার পরই রাহুলের আইনজীবী জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের কথা জানিয়ে জামিনের আবেদন করেন। এরপরই বিচারক ৩০ দিনের জন্য ২ বছরের সাজার উপর স্থগিতাদেশ দেন। রাহুল গান্ধিকে এখন উচ্চ আদালতে আবেদন করতে হবে সাজা কমানোর জন্য।

About Post Author