সময় কলকাতা ডেস্ক,৭ জুলাইঃ পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে দলীয় মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’য় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে তীব্র আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। ‘জাগো বাংলা’ সম্পাদকীয়তে সিভি আনন্দ বোসের উদ্দেশ্যে তৃণমূলের পরামর্শ, ‘রাজ্যপালের উচিত রাজভবন ছেড়ে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামা।’ উল্লেখ্য, রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসা নিয়ে শুরু থেকেই সরব রাজ্যপাল। এমনকী বেনজিরভাবে ভোটের আগে জেলায় জেলায় গিয়েছেন তিনি। হিংসায় আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আবার খানিকটা রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। বৃহস্পতিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে বেনজির আক্রমণ শানান রাজ্যপাল। সিভি আনন্দ বোসের এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ শাসকদল।

শুক্রবার ‘জাগো বাংলা’য় সরাসরি তাঁকে আরএসএসের এজেন্ট হিসাবে তোপ দাগা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্যে আসা ইস্তক আরএসএসের এজেন্ডাগুলিকেই পূরণ করে চলেছেন সিভি আনন্দ বোস। বলা হয়েছে, “বাংলায় রাজ্যপাল বিজেপির অভিসন্ধি পূরণে নেমেছে।” রাজ্যপাল পদের অপব্যবহার নিয়ে বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেসকেও নিশানা করেছে তৃণমূল। তৃণমূল বলছে, রাজ্যপাল পদটি সাংবিধানিক, এই কথাটিই এখন জীর্ণ। “কেন্দ্রে যে যখন সরকারে এসেছে, সে তখন রাজ্যপালের পদটিকে ব্যবহার করেছে রাজনৈতিক স্বার্থে। কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকালেও কম মনিমাণিক্য ছড়িয়ে নেই।” বিজেপির বিরুদ্ধে যখন বিরোধীরা একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক তখন রাজ্যপাল ইস্যুতে কংগ্রেসকে তৃণমূলের আক্রমণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

এদিকে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে। ইতিমধ্যেই সেই জনস্বার্থ মামলা খারিজ করল প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মিডিয়ায় প্রচার পেতেই এই মামলা দায়ের হয়েছিল। এখানে মানুষের স্বার্থ খর্ব হয়নি বলে মত ডিভিশন বেঞ্চের। গত ৭ জুন রাজীব সিনহাকে নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ করা হয়। যা নিয়ে মামলা গড়ায় হাই কোর্টে। সম্প্রতি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজীব সিনহার জয়েনিং লেটারও ফিরিয়ে দেন। তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, নবান্নের কাছে এরকম কোনও খবর নেই।
আরও পড়ুন পঞ্চায়েত ভোটের ফল প্রকাশের পরেও ১০ দিন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

এর মাঝেই হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।আদালতেরাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, আইন অনুযায়ী রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ করা হয়েছে। এই মামলার কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাদের সেই মতেই কার্য়ত সিলমোহর দিল আদালত। মামলা খারিজ করল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। গত ২৬ জুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার নিয়োগ সংক্রান্ত রাজ্যপালকে বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। এই সংক্রান্ত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। ৭ জুন রাজভবন থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ জন্য রাজ্যের প্রস্তাবিত প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব সিনহার নামেই সিলমোহর দেন। তারপর থেকেই তিনি রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজ শুরু করেন। জনৈক আইনজীবীর দাবি, এই নিয়োগ অবৈধ। তাই তাকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে দায়ের হল মামলা।


More Stories
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
কেক কেটে ঈদ উদযাপন