সময় কলকাতা ডেস্ক,৭ জুলাইঃ শনিবার রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তবে নির্বাচনী নির্ঘন্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিংসার ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে। কোথাও চলেছে গুলি, হয়েছে বোমাবাজি, লুঠপাট। প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। রাজ্যে এই হিংসার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্টও। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের ভর্ত্সনার মুখে পড়তে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। এই পরিস্থিতিতে অশান্তি এড়াতে অনেক পদক্ষেপই গ্রহণ করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এবার ভোটের দিন যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সবাই যাতে অবাধে ভোট দিতে যেতে পারে, সেইজন্য জেলায় জেলায় কন্ট্রোল রুম চালু করেছে কমিশন। যে কোনও রকম অভিযোগ থাকলেই সেই কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

শনিবার কমিশনের সামনে কঠিন পরীক্ষা। শুধু কমিশন নয়, পুলিশ-প্রশাসনের কাছেও অবাধ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানো বড় চ্যালেঞ্জ। কারোর কোনও অভিযোগ থাকলে তাঁরা, নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করে সরাসরি রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে জানাতে পারবেন। সেইজন্য কমিশনের তরফে একটি নম্বরও দেওয়া হয়েছে। যে নম্বর গুলিতে ফোন করা যাবে, সেগুলি হল — (০৩৩) ২২৮০-৫২০৬, (০৩৩) ২২৮০-৫২০৭, (০৩৩) ২২৮০-৫২০৮, (০৩৩) ২২৮০-৫২০৯, (০৩৩) ২২৮০-৫২১০, (০৩৩) ২২৮০-৫২১১, এছাড়াও, একটি টোল ফ্রি নম্বরও চালু করা হয়েছে কমিশনের তরফে। ভোটের দিন যে কোনওরকম অভিযোগ জানাতে সাধারণ মানুষ ফোন করতে পারবেন ১৮০০৩৪৫৫৫৫৫৩ নম্বরেও।
আরও পড়ুন রাজ্যপাল আরএসএস-এর এজেন্ট’, ‘জাগো বাংলা’য় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে কটাক্ষ তৃণমূলের

পঞ্চায়েত ভোটে কোনও রকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না বলে ইতিমধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্য সিভি আনন্দ বোস। মনোনয়ন পর্বে রাজনৈতিক অশান্তির সাক্ষী ভাঙড় আর ক্যানিংয়ের পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এসেই রাজভবনে ‘শান্তিকক্ষ’ খুলেছিলেন রাজ্যপাল। এবার ভোটের হিংসা রুখতে পিস অ্যান্ড হারমনি কমিটি অর্থাৎ শান্তি এবং সম্প্রীতি রক্ষা কমিটি খুললেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বুধবার রাতে এ ব্যাপারে রাজভবনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভোট সংক্রান্ত অশান্তি ঠেকাতে রাজভবনে অভিযোগ জানানো যাবে। সেই অভিযোগ পেয়ে রাজ্যপালের তরফে জানানো হবে রাজ্য সরকার এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। ভোটের সময় কোনও রকম হিংসা ও দাঙ্গার পরিস্থিতি বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগ পেলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষা কমিটিতে অভিযোগ জানানো যাবে। এই কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি শুভ্র কমল মুখোপাধ্যায়কে। ইতিমধ্যেই রাজভবনে ‘শান্তিকক্ষ’-এ সরাসরি হেল্পলাইন নম্বর চালু হয়েছে। পঞ্চায়েত ভোটে কোনও ধরনের হিংসার পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সরাসরি ওই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে জানানো যাবে। রাজভবনে বসে রাজ্যপাল সরাসরি সমস্ত অভিযোগ শুনবেন।


More Stories
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
দলত্যাগী গিরগিটিদের নিয়ে কবিতা লিখলেন মমতা
বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন তৃণমূল বিধায়ক সুরজিৎ