সময় কলকাতা ডেস্ক,১৩ জুলাই : লৌহকপাট আর জেনানা ফাটকেও ফুল ফোটে। কয়েদিদের প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে লেখা, সিনেমা কম হয় নি।কয়েদিদের টুকরো টুকরো অনুভূতির কথা জরাসন্ধ তাঁর বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে লেখায় তুলে ধরেছেন।অসামান্য মালয়ালাম চলচ্চিত্র মাথিলুকাল যারা দেখেছেন তাঁরা অনুভব করেছেন যেকোনও পরিস্থিতিতে মানবিক সম্পর্কের বিকাশ ঘটে, রূপান্তর আসে প্রেম তো হতেই পারে।সেই কাহিনীতে কারাগারে শুরু হয় প্রেম। সেই প্রেম পূর্ণতা পায় নি। কিন্তু বাস্তব যে গল্পের চেয়েও আশ্চর্যজনক হতে পারে।দুই কয়েদির সেই প্রেমই বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে পরিণতি পেল বৈবাহিক সম্পর্কে ।

আজব প্রেম কী গজব কাহানি হলেও এ কোনও চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য নয়। বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে থাকা অন্য বন্দি ও কারাগার রক্ষীদের কেউই বন্দি আবদুল হাসিম ও শাহানারা খাতুনের প্রেমে বাধা হয়ে ওঠেননি।মানবাধিকার সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি বুধবার দায়িত্ব নেয়। দুই পরিবারকে রাজি করিয়ে পাঁচ দিনের প্যারোলে মুক্তি নিয়ে মন্তেশ্বরের কুসুম গ্রামে মুসলিম রীতি মেনে রেজিস্ট্রি ম্যারেজের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেলবন্দি দুই আসামী। বন্দি আবদুল হাসিমের বাড়ি অসমের দোরাং জেলার দলগাঁও থানা এলাকার রঙ্গনগারোপাথার গ্রামে। আর তার প্রেমিকা শাহানারা খাতুন বীরভূম জেলার নানুর থানার উচকারণ-বালিগড়ির বাসিন্দা। মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের কথা অনুযায়ী, ধর্ষণের মামলায় হাসিম ৮ বছর ও খুনের মামলায় শাহানারা ৬ বছর ধরে বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি। সেখানেই হাসিমের সঙ্গে পরিচয় হয় শাহানারার। পরিচয় গড়ায় প্রেমে। বৃহস্পতিবার তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল। দম্পতি পরিচয় পেয়ে খুশি দু’জনেই। তবে মুক্তি না-মেলা পর্যন্ত শ্রীঘরবাসী হয়েই থাকতে হবে নবদম্পতিকে। কয়েদিদের যে চোখে দেখা হোক। তাঁদের হৃদি প্রেমে ভেসে যায়। বন্দী জীবন ঠিকই, কিন্তু তাতে কী এসে যায়,তাদের প্রেম যে প্রজাপতি হয়ে লৌহ কপাট আর জেনানা পাঠকের সীমানা ছাড়িয়ে খোলা আকাশে পাখা মেলেছে!
আরও পড়ুন :বিধায়ক ঈশ্বর চড় খেলেন মহিলার হাতে


More Stories
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
কেক কেটে ঈদ উদযাপন
বউ বদল : ময়নাগুড়িতে স্বামী-স্ত্রীর বদলাবদলি নাকি বদলা ?