সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ জুলাইঃ রাজ্যে ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের রক্তভাণ্ডারে প্লেটলেটের ঘাটতি ঠেকাতে আগেভাগে গাইডলাইন জারি করে দিল স্বাস্থ্য দফতর। বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে ও ব্লাড ব্যাঙ্কে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। গাইডলাইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রোগীর প্লেটলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নীচে গেলে প্লেটলেট দিতে হবে। যেসব রোগীদের প্লেটলেট কাউন্ট ১০ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে, সেক্ষেত্রে রক্তপাত না হলে প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোন গ্রুপের প্লেটলেট প্রয়োজন, প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করতে হবে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি সংক্রমণে রোগীর দেহে প্লেটলেট কাউন্ট কমে যায়। তখন রক্তপাত হতে পারে। সে সময়ে প্লেটলেট দিতে হয় রোগীকে।

তবে ডেঙ্গির সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্লেটলেট নিয়ে খানিকটা অতিরিক্ত আতঙ্কও তৈরি হয়। অনেকেই ভেবে বসেন, ডেঙ্গি হলেই হাসপাতালে ভর্তি করে প্লেটলেট দিতে হবে। আসলে সবক্ষেত্রে এমন হয় না, প্লেটলেট কমতে শুরু করলেও তা নিয়ে প্রথমেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অনেক সময়ে নিয়ম মেনে রোগীর যত্ন করলেই প্লেটলেট বেড়ে যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের একাংশ তা না বুঝে আতঙ্কিত হলে প্লেটলেটের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয় বা হাহাকার পড়ে যায়। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গিয়েছে,রাজ্যে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি ২ হাজার ৬০০ পার করে গিয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাও। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর পুরসভার উদ্যোগে পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডেই জোর কদমে ডেঙ্গি রুখতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জানা গেছে ইতিমধ্যেই পুরসভার সার্ভে টিম পুর নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছেন। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন নিকাশি নালায় মশার পাদূর্ভাব আটকাতে পুরসভার পক্ষ থেকে করা হচ্ছে স্প্রে। ডেঙ্গি মোকাবিলায় সচেতনতা একমাত্র সবথেকে বড় হাতিয়ার এমনটাই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন ফিলিপিনো -আমেরিকান মেয়েদের সৌজন্যে নিউজিল্যান্ডকে হারাল ফিলিপিন্স

প্রসঙ্গত, এবছরের মে মাসের গোড়ায় ২০২২ সালে বাংলায় ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় কত মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন তার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তাতে দেখা যায়, মশাবাহিত ডেঙ্গি রোগে বাংলায় আক্রান্তের সংখ্যা দেশের মধ্যে শীর্ষে পৌঁছেছে। জানা যায়, গত বছর রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬৭ হাজার ২৭১ জন। শুধু ডেঙ্গি নয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী ম্যালেরিয়াতেও গত বছর আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪০ হাজার ৫৬৩ জন। অর্থাৎ ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া মিলিয়ে এক বছরে বাংলায় আক্রান্ত হয়েছেন এক লক্ষেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক রাজ্য। এবার আগেভাগেই প্রশাসনকে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় নামার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বহু জায়গায় পুরসভা, পঞ্চায়েতের উদ্যোগে মশা মারতে নর্দমা, খালে গাপ্পি মাছ ছাড়া হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে কী হয় সেটাই এখন দেখার।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি