Home » ফিলিপিনো -আমেরিকান মেয়েদের সৌজন্যে নিউজিল্যান্ডকে হারাল ফিলিপিন্স

ফিলিপিনো -আমেরিকান মেয়েদের সৌজন্যে নিউজিল্যান্ডকে হারাল ফিলিপিন্স

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ জুলাই : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফিলিপিন্স দ্বীপপুঞ্জর ফুটবল কৌলিন্য কখনই আহামরি নয়। পুরুষদের ফুটবলে ফিফা ৱ্যাঙ্কিংয়ে প্রথম একশোর মধ্যে কোনোদিন  আসে নি ফিলিপিন্স । তবে মহিলাদের ফুটবলে চিত্র অন্যরকম।বলা ভালো, হালে অন্যরকম হয়ে উঠছে একদল মেয়ের সৌজন্যে। মহিলা ফিফা ৱ্যাঙ্কিংয়ে তাদের স্থান ৪৬।কিন্তু তাতে কী? বিশ্বকাপে দ্বীপপুঞ্জের মেয়েরা হয়ে উঠল অঘটন- পটিয়সী। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের ম্যাচ ছিল মঙ্গলবার। নিউজিল্যান্ডের আবার মহিলা ফিফা ৱ্যাঙ্কিং ২৬। ফিফা ৱ্যাঙ্কিংয়ে ফারাক যে খেলার মাঠে সব সময় কার্যকরী হয় তাও নয়। অন্তত মঙ্গলবারের ফিফা মহিলা বিশ্বকাপে ফিলিপিন্স তাই প্রমাণ করে দিল। ৱ্যাঙ্কিংয়ে ২০ ধাপ এগিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে তারা জয় পেল ১-০ গোলে আর ঘরে তুলল মহামূল্যবান তিনটি পয়েন্ট।এই জয় আরও তাৎপর্যপূর্ণ এই জন্যই যে, ওয়েলিংটনে হওয়া খেলায় আয়োজক দেশকে তাদের পরিচিত আবহাওয়ায় হারাল ফিলিপিন্স।আরও সুনির্দিষ্ট ভাবে বলা ভালো, এই জয় ফিলিপিনো-আমেরিকান মেয়েদের। ফিলিপিন্স দ্বীপপুঞ্জ  মহিলা ফুটবলে  ক্রমেই এগিয়ে আসছে ফিলিপিনো -আমেরিকান মেয়েদের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে।

তবে যদি বিষয়টির বিশদে ঢোকা যায় তাহলে ফিলিপিন্স দলের জয় মোটেই আশ্চর্যজনক ঘটনা নয়। ফিলিপিনো আমেরিকান মেয়েদের কথা বারবার উল্লেখ করা হচ্ছে, এই ফিলিপি নয় আমেরিকান বিষয়টি কি সেকথা জানা দরকার। জানা দরকার, ফিলিপিন্স মহিলা দলের শক্তির উৎস মূলত আমেরিকা।ফিলিপিন্স মহিলা দলের বিশ্বকাপ খেলতে আসা ২৩ জন মেয়ের ১৮ জনের জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন মেয়েরা এমনিতেই বিশ্ব ফুটবলে অনেকটাই এগিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই, দলের অধিকাংশ প্লেয়ার মার্কিন হওয়ায় দলটির শক্তি বেশ ভালো। এছাড়াও নরওয়ে, সুইডেন প্রভৃতি দেশের কয়েকজন বাছাই করা মহিলা ফুটবলারকে খেলাচ্ছে ফিলিপিন্স। এদের যোগফলেই এসেছে জয়। সুইডেনজাত সারা এগেসেভিকের ক্রসে আমেরিকাজাত সারিনা বোল্ডেনের হেড থেকে হওয়া গোলের সুবাদে জয় তারই ফলশ্রুতি। বিদেশে জন্ম, বিদেশে ফুটবল খেলে বড় হওয়া মেয়েদের নিয়ে বিশ্বকাপের আসরে আসা ফিলিপিন্স দলের দলনায়িকা মার্কিন মূলের তেহেনাই আনিস তাই জানিয়েছিলেন তারা ফিলিপিনসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য  বন্ধনে বাঁধা, “এটা কোনও আমাদের পরিবার আমেরিকায় আছে নাকি আমরা ম্যানিলায় বড় হয়েছি, আমাদের কাছে একমাত্র লক্ষ্য আমরা ফিলিপিন্সের হয়ে খেলছি। “- জানিয়েছিলেন আনিস। বিগত কয়েক বছর ধরেই  একঝাঁক ফিলিপিনো আমেরিকান মেয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন এশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের হয়ে। তাঁরা নিজেদের ফিলিপিনসের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন মনে করেন, আর মনে করেন তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে হবে মাঠে। তাই প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ড মহিলা দলের কাছে দমে না গিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ডু অর ডাই ম্যাচ জিতে নেয় ফিলিপিনো-আমেরিকান মেয়েরা ।

ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন সারিনা বোল্ডেন। এই ফিলিপিনো-আমেরিকান মিডফিল্ডারকে উঁচু ক্রস বাড়িয়েছিলেন সারা এগেসেভিক যিনি আবার নরওয়ে জাত। ম্যাচে প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ জন মিলে ডিফেন্স করে থামিয়ে রাখে কিউই স্ট্রাইকার হান্না উইলকিনসন ও তার সতীর্থদের। এরমধ্যেও সুযোগ পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড কিন্তু গোলরক্ষক অলিভিয়া ম্যাকড্যানিয়েল নিশ্চিত পতন রোধ করেন।শেষ পর্যন্ত নিজেদের দুর্গ অক্ষত রেখে ফিলিপিনো আমেরিকান প্রমীলা বাহিনী নিজেদের জয় নিশ্চিত করে।।

About Post Author