সময় কলকাতা ডেস্ক,৩০ জুলাইঃ শনিবার সকালে অশান্ত মণিপুরে গিয়েছেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতিনিধি দল। রবিবার মণিপুর সফরের দ্বিতীয় দিনে রাজ্যপাল অনুসূয়া উইকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর হাতে মণিপুর ইস্যুতে স্মারকলিপি তুলে দিলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদরা। এদিন সকালে মণিপুরের রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ২১ জন সাংসদ। তাঁদের জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে রীতিমতো তীব্র ভাষায় বিজেপি সরকারকে আক্রমণ শানানো হয় বলেই সূত্রের খবর। ওই স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, মণিপুরে ত্রাণ শিবিরগুলি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। একেকেটা ঘরে ৪০০-৫০০ জনকে রাখা হচ্ছে। রাজ্য সরকার কেবল চাল আর ডাল দিচ্ছে। কিন্তু ছোটদের খাওয়ার মতো কিছু নেই। দ্রুত ছোটদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা দরকার। মণিপুরের পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে।

নির্ধারিত সূচি মেনেই শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ১৬টি দলের মোট ২০ জন প্রতিনিধি মণিপুরে রওনা দেন। কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর নেতৃত্বে গিয়েছে প্রতিনিধি দলটি। তৃণমূলের তরফে রয়েছেন,রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব, আরডেজির মনোজ কুমার, আপের সুশীল গুপ্তা, কংগ্রেসের গৌরব গগৈ, ডিএমকের কানিমোঝি-সহ জোট শরিকের ২০ জন। মণিপুর পৌঁছেই তাঁরা দুই দলে ভাগ হয়ে যায়। একদল পাহাড়ি অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ কুকিদের সঙ্গে দেখা করে। অন্যদলটি উপত্যকায় মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেখা করে। উপত্যকার ইম্ফল থেকে পাহাড়ের চূড়াচাঁদপুর– দুই প্রতিনিধিদল সর্বত্র গিয়েছে। ত্রাণ শিবিরগুলিতে মহিলা ও শিশুদের করুণ পরিস্থিতি দেখে স্তম্ভিত তাঁরা। রবিবার সকালে মণিপুরের রাজ্যপালের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের প্রতিনিধিদল দেখা করেছে। বিরোধীদের দাবি, গত ৮৯ দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে মণিপুর নিয়ে মৌনব্রত নিয়েছেন, তাতেই বোঝা যায়, মণিপুর নিয়ে তাঁর মানসিকতা কী।

প্রসঙ্গত, বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই মণিপুর ইস্যুতে উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদ। নিত্যদিনই সংসদের দুই কক্ষে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিরোধী দলের সাংসদরা। প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি চেয়ে মণিপুর ইস্যুতে এককাট্টা বিরোধীরা। এমনকী মণিপুর ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদে সংসদে কালো পোশাক পরে আসেন ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা। প্রতিটি বিরোধী সংসদীয় দলের নেতারা তাঁদের দলের সমস্ত সাংসদদের এই কালো পোশাক পরে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মণিপুর ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই কালো পতাকার বদলে কালো পোশাক পরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে, গত বুধবারই বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনার জন্য গৃহীত হয় লোকসভায়। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বুধবার ২৬টি বিরোধী দলের জোট ‘ইন্ডিয়া’র তরফে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন। স্পিকার সেই আলোচনার অনুমোদন দেন। বিরোধীরা চেয়েছিল সরকার যাতে মনিপুর প্রসঙ্গ এড়িয়ে একতরফা ভাবে ৩১টি বিল পাস করিয়ে নিতে না পারে। অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনা হলে সংসদের নেতা তথা সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর জবাব দেওয়াটা সংসদীয় রীতি। ফলে নরেন্দ্র মোদি মণিপুর নিয়ে নীরব থাকলেও অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনার উপর জবাবে ভাষণে তাঁকে উত্তর পূর্বের ওই রাজ্যটির বিষয়ে বলতে হতে পারে। যদিও একথাও ঠিক প্রধানমন্ত্রী চাইলে জবাবী ভাষণেও মণিপুর প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে পারেন।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?