সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ আগস্ট: প্রায় চার মাসেরও বেশি সময় ধরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে। মণিপুরে অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার দাবিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবও এনেছে বিরোধীরা। মণিপুরের হিংসা নিয়ে এতদিন মুখে কুলুপ এঁটেছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এহেন পরিস্থিতিতে এবার সংসদে ‘রি-এন্ট্রি’-র পরই নিজের সাংসদ কেন্দ্র ওয়ানাড়ে গিয়ে মণিপুর ইস্যুতে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন রাহুল। মণিপুরে যা বর্তমান অবস্থা, গত ১৯ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনও তিনি সেরকম অভিজ্ঞতার সাক্ষী হননি বলে জানান রাহুল গান্ধি। এদিন মণিপুর ইস্যুতে সরব হয়ে রাহুল বলেন, ‘মণিপুরের হাজার-হাজার মানুষ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। অথচ সংসদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এই বিষয়ে ঠিকমতো আলোচনা করছেন না। কিন্তু আমরা একসঙ্গে মণিপুরকে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনব। আমরা ৫ বছর সময় নেব এবং মণিপুরে ভালবাসা ফিরিয়ে দেব। এটা বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যেকার লড়াই।’

এদিকে, মণিপুরের অশান্তির ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং-এর পদত্যাগের দাবিতে বারবার সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতারা। সংসদে তাঁরা সকলেই মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন ও মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফার দাবি করেছেন। এহেন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মণিপুরে সরকার ভেঙে নতুন সরকার গঠন করা বা মুখ্যমন্ত্রীকে পদ থেকে সরানোর কোনও পরিকল্পনা আপাতত নেই। এদিন সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ‘মণিপুরের এন বীরেন সিং সরকার সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। রাষ্ট্রপতি শাসন তখনই জারি করা হয়, যখন সরকার কোনরকম সহযোগিতা করে না। কিন্তু মণিপুরে অশান্তির ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে।’ যদিও এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ।
আরও পড়ুন দলীয় কর্মসূচির ফাঁকে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের স্মৃতিধন্য বাসগৃহে জেপি নাড্ডা

এদিন সংসদের বাইরে তিনি বলেন, ‘মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী যদি সহযোগিতা করেই থাকে, তাহলে মণিপুরে ৬০ হাজার মানুষ ত্রাণ শিবিরে বসবাস করছে কেন? এটাই যদি সহযোগিতা হয়ে থাকে, তাইলে প্রধানমন্ত্রীর উচিত এখনই মুখ্যমন্ত্রীকে পদচ্যুত করা। এটা কি ধরনের সহযোগিতা, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ভুল স্বীকার করার সাহস নেই।’ মণিপুরে শান্তি ফেরাতে গত ২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে যান ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতিনিধিরা। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে তাঁর কাছে স্মারকলিপিও জমা দেন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতিনিধিরা। এদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন শরদ পাওয়ার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সঞ্জয় রাউত প্রমুখ। তাঁর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। স্মারকলিপিতে রাষ্ট্রপতির কাছে জানানো হয়েছে,সংসদের বাদল অধিবেশনে আর দেখা মিলছে না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। মণিপুরে হস্তক্ষেপ করুন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি এদিন রাজ্যসভার সাংসদ তৃণমূল নেত্রী সুস্মিতা দেব রাষ্ট্রপতির কাছে আরজি জানিয়েছেন, মণিপুরের দুই নির্যাতিতা মহিলাকে রাজ্যসভায় পাঠানো হোক।


More Stories
যোগা, নামাজ, রেডরোড ও “হরিদাস পাল”
অভিষেক আসতেই দুই-দলে খণ্ডযুদ্ধ, বিমানবন্দরে আতঙ্কে যাত্রীরা!
ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন